ঢাকা,  শনিবার   ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সুন্দরবনে আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৭, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সুন্দরবনে আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যুর আত্মসমর্পণ
সুন্দরবনে আত্মসমর্পণকৃত আলিফ বাহিনীর ১৫ জলদস্যু। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এসআরবি-৬-এর তৎপরতার মধ্যে আলিফ বাহিনীর ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেছেন।

৯ অক্টোবর (শুক্রবার) আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন ও মজিদ গ্রুপের ৭ জনসহ মোট ১৫ জন জলদস্যু এসআরবি-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) এসআরবি-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এ বনের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করেন হাজার হাজার জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়াল। তবে দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বনজীবী ও স্থানীয়দের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক অভিযান এবং সরকারের পুনর্বাসন উদ্যোগের ফলে অতীতে সুন্দরবনের বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন দস্যুচক্রের তৎপরতা এবং আত্মসমর্পণকারী কিছু সদস্যের পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে জেলে ও বনজীবীদের অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনাও সামনে আসে।

এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসআরবি-৬ গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদার করে। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক তৎপরতা, বনের প্রতিকূল পরিবেশ এবং অপরাধমূলক জীবনের অনিশ্চয়তার কারণে দস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সুন্দরবনে সক্রিয় আলিফ বাহিনীর অংশবিশেষের ১৫ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। তাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ গ্রুপের ৮ জন এবং মজিদ গ্রুপের ৭ জন রয়েছেন।

এসআরবি-৬-এর মতে, এ আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি বনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালসহ অন্যান্য বনজীবীর নিরাপদে জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সুন্দরবনকে জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপতৎপরতা থেকে মুক্ত রাখা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এসআরবি-৬-এর মিডিয়া সেল জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!