ঢাকা,  শুক্রবার   ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সবুজে ছেয়ে গেছে আমনখেত, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:১০, ২ অক্টোবর ২০২৬
সবুজে ছেয়ে গেছে আমনখেত, স্বপ্ন দেখছেন কৃষক
আখাউড়ায় দিগন্তজুড়ে বাতাসে দুলছে আমন ধানের চারা। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দিগন্তজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। বাতাসে দুলছে আমন ধানের চারা। কয়েক সপ্তাহ আগেও যে জমিগুলো ছিল কাদামাটিতে ভরা, এখন সেখানেই চোখজুড়ানো সবুজের সমারোহ। ধানের খেতের এমন দৃশ্য দেখে নতুন আশায় বুক বাঁধছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার কৃষকরা।

 এ মৌসুমে উপজেলার কৃষকরা রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে হাল চাষ,সেচ দিয়ে আমন ধান আবাদ করে।  ইতিমধ্যে এ ধানের খেতকে  ঘিরে স্থানীয় কৃষকরা স্বপ্নের জাল বুনতে শুরু করেছে। রোপনকৃত আমন খেতের অবস্থা অনেকটাই ভালো হওয়ায় কৃষকেরা আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছে।

Advertisement

গত বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ও বিক্রিতে দর ভালো পাওয়ায় আগ্রহ নিয়ে আমন ধান আবাদ করে। বোরোর চাইতে আমনে ফলন ভাল করতে সর্বাত্বক চেষ্টা করছেন।

পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমন খেত সবুজে ছেয়ে গেছে। কোথাও ধানের চারা বেড়ে উঠছে, আবার কোথাও ইতোমধ্যে ধানের গাছ বেশ শক্ত ও সতেজ হয়ে উঠেছে। সকাল-বিকেল কৃষকরা জমিতে গিয়ে আগাছা পরিষ্কার, সার প্রয়োগ, সেচ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ পর্যবেক্ষণসহ নানা ধরনের পরিচর্যা করছেন।

এদিকে কৃষি বিভাগের আন্তরিকতায় কৃষিতে লেগেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। সেইসাথে  জমিতে ফলন ভালো ফলাতে নিয়মিত তারা তদারকি করছে। রোগ বালায়ের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদেরকে ধান জমিতে কঞ্চি ও গাছের ডাল পুতে পাখি দিয়ে পোকা মাকড় দমনে তারা উৎসাহিত করে যাচ্ছেন।

স্থানীয় একাধিক কৃষক জানায়, আমন ধান হলো অন্যতম প্রধান ফসল। এ ফসলের ওপর অনেক কৃষক পরিবারের আয়-ব্যয়ের বড় একটি অংশ নির্ভর করে। বীজ, সার, কীটনাশক, জমি প্রস্তুত ও শ্রমিকের খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বেড়েছে। তাই এবার ফলন ভালো হলে সেই খরচ পুষিয়ে লাভের মুখ দেখার আশা করছেন তারা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন  আবাদে প্রায় ৪  হাজার ৪শ ১০ হেক্টর জমিতে লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়।  রোপনকৃত জমির মধ্যে ব্রি-৫২-৭৫,৮৫,৮৭,৯৩,৯৫, ৯৬,৯৭, ১০৩ বিআর ২৩সহ নানা জাতের উন্নতফলনশীল ধান রয়েছে। ধান রোপন করতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে কৃষককে ৫ কেজি বীজ ধান, ১০ কেজি এমওপি এবং ১০ কেজি ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়।

কৃষক আব্দুল বাছির বলেন, কৃষি অফিসের সহায়তায় এ মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপন করি। জমিতে ধান চারা রোপন করার পর পর কয়েক দফা বৃষ্টি হওয়ায় পানি বৃদ্ধিতে অনেকটাই চিন্তিত হয়ে পড়ি। এরপর পানি চলে যাওয়ায় মাঠে প্রাণ ফিরে আসে। তবে নিয়মিত বৃষ্টি হওয়া এবং সময় মতো সার দেওয়া সহ সঠিক ভাবে জমির পরিচর্যা করায় এখন ধান গাছের অবস্থা খুবই ভালো। খেত সবুজে ভরে উঠেছে চারদিক। জমির যে অবস্থা বড় ধরনের কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে বাম্পার ফলনের আশা করছি।

কৃষক নাসির মিয়া বলেন  নানা প্রতিকুলতা অপেক্ষা করে ৫ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করি। এবার চারা রোপনের পর থেকে নিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। “ধানের গাছ এখন বেশ বড় হয়ে উঠছে। মাঠের দিকে তাকালে মনটা ভালো হয়ে যায়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং রোগবালাই না হলে এবার ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছি।

কৃষক আমির হোসেন বলেন,  গত বোরো মৌসুমে ধান আবাদ করে ফলন ও বিক্রিতে ভালো দর পেয়েছি। তাই এবার ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করি। কৃষি অফিস থেকে সার বীজ পেয়েছি। আমন আবাদের শুরুতে দফায় দফায় বৃষ্টি হওয়ায় পানি নিয়ে কোন চিন্তা করতে হয়নি। তাছাড়া কৃষি অফিস সার্বিক সহযোগিতা করায় এ চাষে খরচ ও অনেক কম হয়েছে। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা বেশ ভালো আছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমন ধানের ভালো ফলনের জন্য নিয়মিত জমি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিচর্যা করা জরুরি। রোগবালাই বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সুষম মাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, এ মৌসুমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমন ধান রোপণ শেষ হয়। আমন চারার কোনো সংকট পড়েনি। তবে প্রথম দিকে টানা বৃষ্টিপাত হলে ও সময় মতো পানি চলে যাওয়ায় আমন ধান আবাদে কোনো ক্ষতি হয়নি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে কৃষককে ধানবীজ, এমওপি এবং ডিওপি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। বর্তমানে আমন ধানের খেত সবুজে ভরে উঠেছে। সার্বক্ষণিক ভাবে খোঁজখবর রাখছি। জমিতে ফলন ভাল করতে কৃষকদেরকে পরামর্শ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। শেষ পযর্ন্ত আবহাওয়া অনুকুল থাকলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করা যায়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!