৫০ শয্যার হাসপাতাল চলছে ১৯ শয্যায়, অর্ধেক জনবলই নেই
তিন লাখ মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটি ভবন সংকটে বর্তমানে মাত্র ১৯ শয্যায় রোগীদের সেবা দিচ্ছে। এর সঙ্গে অনুমোদিত ২১২টি পদের মধ্যে ১০৬টিই শূন্য থাকায় সীমিত সক্ষমতায় বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
হাসপাতালের ২০২৬ সালের জনবলসংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২১২টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১০৬ জন। অর্থাৎ অনুমোদিত জনবলের অর্ধেকই নেই। এতে চিকিৎসাসেবা, রোগ নির্ণয়, জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের নিয়মিত কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণির ৩৫টি পদের মধ্যে ২০টি, দ্বিতীয় শ্রেণির ৩০টির মধ্যে ১৩টি, তৃতীয় শ্রেণির ১২৪টির মধ্যে ৫৪টি এবং চতুর্থ শ্রেণির ২৩টির মধ্যে ১৯টি পদ শূন্য রয়েছে।
.png)
চিকিৎসক পর্যায়েও রয়েছে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি। সার্জারি, গাইনি, মেডিসিন, অ্যানেসথেশিয়া, শিশু, ইএনটি, অর্থোপেডিকস, কার্ডিওলজি, চক্ষু ও চর্মসহ বিভিন্ন বিভাগের জুনিয়র কনসালট্যান্টের একাধিক পদে কোনো চিকিৎসক নেই। পাশাপাশি আবাসিক মেডিকেল অফিসার, মেডিকেল অফিসার ও সহকারী সার্জনের পদেও শূন্যতা রয়েছে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত টেকনিক্যাল ও সহায়ক জনবলও প্রয়োজনের তুলনায় কম। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফিজিও, কার্ডিওগ্রাফার, কম্পাউন্ডার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য সহকারীর একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য।
বিশেষ করে ৪৪টি স্বাস্থ্য সহকারীর পদের মধ্যে ২১টি এবং ৯টি সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শকের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।
এ ছাড়া ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট, ওটি বয়, জরুরি বিভাগের অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহায়ক, ওয়ার্ড বয়, আয়া, কুক বা মশালচি, নিরাপত্তা প্রহরী, মালি ও সুইপারসহ বিভিন্ন পদেও জনবল সংকট রয়েছে। ফলে রোগীর চাপ বাড়লে অপেক্ষার সময় বাড়ছে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিলম্ব হচ্ছে এবং জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডে কর্মরতদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, প্রত্যন্ত উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অনেক রোগীকেই দূরের শহরে যেতে হয়। তাই উপজেলা পর্যায়ের এই হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
তিনি দ্রুত শূন্য পদ পূরণের পাশাপাশি অনুমোদিত ৫০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ সেবা চালুর দাবি জানান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, ‘কোনোরকম জোড়াতালি দিয়ে চিকিৎসাসেবা চালাতে হচ্ছে।’ প্রায় তিন লাখ মানুষের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও ভবন সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯ শয্যায় সেবা দিতে হচ্ছে। তার ওপর অর্ধেক জনবল না থাকায় কর্মরতদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, রোগীর চাপ বেড়ে গেলে অপেক্ষার সময় বৃদ্ধি, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিলম্ব এবং জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডের সেবায় চাপ তৈরি হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালে কয়রা উপজেলার জায়গীরমহল গ্রামে ৩১ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০১১ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়।