বান্দরবানের নতুন সিভিল সার্জন ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী
বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) হিসেবে স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরীকে পদায়ন করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের ওয়েবসাইটে রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাখালী কার্যালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখান থেকে তাকে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সিভিল সার্জন (চলতি দায়িত্ব) পদে পদায়ন করা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
.png)
দায়িত্ব নেওয়ার পর জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা এবং সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচিগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নবাগত সিভিল সার্জন।
ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী বলেন, জেলার সব উপজেলায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচি, বিশেষ করে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। হাম, ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন নতুন সিভিল সার্জন। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তার জন্য ইতোমধ্যে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রোগীদের সঙ্গে ভালো আচরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।
হাসপাতালে দালালের দৌরাত্ম্য ঠেকাতেও নজরদারি বাড়ানোর কথা জানান ডা. শাহীন হোসাইন চৌধুরী। তিনি বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় করে দালালদের তৎপরতা প্রতিরোধে নজরদারি অব্যাহত রাখা হবে। কোনো রোগী যাতে হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ সতর্ক থাকবে।
বান্দরবানের দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকার মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়া, রোগ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ উন্নয়নে সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে কাজ করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন নবাগত সিভিল সার্জন।