পটুয়াখালী এলএ শাখায় ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
পটুয়াখালী ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার মাধ্যমে পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং চেকের মাধ্যমে আরও অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নেওয়া এবং অর্থ লেনদেনে বাধ্য করার অভিযোগও করেছেন পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় তিনি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে টাকা লেনদেন ও চেকসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণও জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
অভিযোগে রফিকুল ইসলাম জানান, পায়রা বন্দর নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় তার বেশ কিছু জমি রয়েছে। জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলন করতে পারেননি তিনি। মামলাগুলো নিষ্পত্তির পর ক্ষতিপূরণের অর্থের বিষয়ে পটুয়াখালী এলএ শাখায় যোগাযোগ করলে শাহাবুদ্দিন আহমেদ ও আবদুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
.png)
রফিকুলের দাবি, ওই দুই ব্যক্তি তাকে এলএ শাখার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। প্রথমে এক লাখ টাকা দাবি করা হলেও পরে ৬০ হাজার টাকায় বিষয়টি করার কথা বলা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির কথা বলে আরও অর্থ দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে রফিকুল বলেন, একপর্যায়ে তাকে পটুয়াখালী শহরের ছোট চৌরাস্তা এলাকায় শাহাবুদ্দিনের ভাড়া বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে ফাইলের আপত্তি নিষ্পত্তির জন্য তার কাছে ৯ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দুই লাখ টাকা দিতে বলা হলে তিনি তা পরিশোধ করেন। এরপর বিভিন্ন ধাপে আপত্তি নিষ্পত্তি ও ক্ষতিপূরণের টাকা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে শাহাবুদ্দিন ও মামুন তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
রফিকুলের আরও অভিযোগ, পরে ক্ষতিপূরণের চেক প্রস্তুত হওয়ার কথা জানিয়ে তাকে পটুয়াখালীতে ডেকে নেওয়া হয়। এ সময় তার জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি এবং তার স্ত্রীর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়। পরে পটুয়াখালী রূপালী ব্যাংকের একটি শাখায় তার নামে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। একই ব্যাংকে আবদুল্লাহ আল মামুনও একটি হিসাব খোলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী দাবি করেন, তার নামে খোলা ব্যাংক হিসাবের চেকবইও মামুন নিয়ে নেন। পরে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং কয়েক দিন পটুয়াখালীতে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়। একপর্যায়ে তার ব্যাংক হিসাব থেকে ৪০ লাখ টাকা উত্তোলনের জন্য একটি চেকে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া মামুন তার কাছ থেকে আট লাখ টাকা ধার নেওয়ার কথা বলে আরেকটি চেকে স্বাক্ষর নেন এবং নিজের হিসাবের একটি চেক তাকে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন রফিকুল। পরে ওই চেকের মাধ্যমে তার ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় শাহাবুদ্দিন ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যাংকে টাকা দেওয়ার বিষয়ে তাকে সম্মতি দিতে বাধ্য করেন বলেও অভিযোগ করেন রফিকুল।
রফিকুল জানান, বিষয়টি নিয়ে পরে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেন। মামুনের দেওয়া সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক নিয়ে কলাপাড়া আদালতে মামলা করা হয়েছে এবং ১৯ জুলাই ২০২৬ তাকে আইনজীবীর মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চেকসংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
অভিযোগে শাহাবুদ্দিন ও মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আদালত ও থানায় পৃথক মামলা ও অভিযোগ থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্ত এবং আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
রফিকুলের আরও অভিযোগ, আদালতে মামলা করার কয়েক দিন পর পটুয়াখালী এলএ শাখায় ফাইল জমা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে পটুয়াখালী মডেল মসজিদের সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গেও শাহাবুদ্দিন ও মামুন জড়িত বলে দাবি করেছেন রফিকুল।
তিনি বলেন, ‘আমি আমার টাকা ফেরত চাই এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। আমি ও আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আমার কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করা হোক।’
অভিযোগের বিষয়ে আবদুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো মিথ্যা। রফিকুল ইসলামের সঙ্গে টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকার লেনদেন আছে, তবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।’ অভিযোগের অন্যান্য বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।