সিরাজগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুর বেড়েই চলেছে আতংক ছড়াচ্ছে জেলা জুড়ে
সিরাজগঞ্জে বেওয়ারিশ কুকুর বেড়েই চলেছে আতংক ছড়াচ্ছে জেলা জুড়ে । নিয়ন্ত্রণ, নিধন ও টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জেলার প্রতিটি উপজেলায় কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে।
জানা যায়, প্রায় প্রতিদিনই কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যারা রাত করে ঘরে ফিরেন, তারা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ রাত বাড়ার সাথে সাথে কুকুরের উৎপাতও বেড়ে যায়, কুকুরগুলো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তারা পথচারীদের গতিরোধ করে ফেলে।
.png)
রিকশা, মোটরসাইকেল কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকলেও কুকুরের ভয় থাকে যাত্রীদের। দলবদ্ধ কুকুর চলন্ত গাড়িকেও তাড়া করে অনেক সময়। ফলে ভয়ে অনেক যাত্রী বিকল্প পথে ঘরে ফিরতে বাধ্য হন। এছাড়া সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রতি দিন কয়েকশত রোগী আসেন কুকুরের কামড়ের ব্যাকসিন নিতে আসেন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে ।
জলাতংক রোগে আক্রান্তরা প্রতিদিনই প্রতিশেধক ভ্যাকসিনের জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন। পাগলা কুকুরে সংখ্যা এতটাই বেড়েছে যে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গুলিতে শতাধিক মানুষ আসছে প্রতিশেধক ভ্যাকসিনের জন্য। ছোট বড় যে কাউকে সুযোগ পেলেই আক্রমণ করে বসছে কুকুর।
বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে শিশুসহ যুবক, বৃদ্ধ, এবং গবাদিপশু কুকুরের কামড়ে আহত হবার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ভ্রমনকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে একজনকে কুকুরের কামড়ের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ১৫ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে হাসপাতালে আসেন। এবং জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরমধ্যে চরাঞ্চলের নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বিচ্ছিন্নভাবে ৪ জন শিশু ও ১ জন বৃদ্ধসহ ৭ জনকে কুকুর কামড়ায়। এছাড়াও গান্ধাইল, সোনামুখী, চালিতাডাঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী রতনকান্দি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে আরো ৮ জন কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। প্রতিদিন প্রায় ৮/১০ জন জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসেন।
নাটুয়ারপাড়া গ্রামের রফিকুলের (৭০) অবস্থা আশঙ্কাজনক, তার মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বিলসুন্দর গ্রামের ৮ বছর বয়সী ওমর ফারুক এবং ১৩ বছরের মারুফ স্কুলে যাওয়ার পথে কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। এছাড়াও নাটুয়ারপাড়া গ্রামের সুরাইয়া (৮) বাড়ির সামনে বিস্কিট খাওয়ার সময় আক্রান্ত হন। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কুকুরের আচরণে বেশ উগ্রতা লক্ষনীয়, সামন্যতেই মানুষ, গবাদিপশুর উপর আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ রাসেল বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৮/১০ জন জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন নিতে হাসপাতালে আসেন, এদের মধ্যে অনেকেই কুকুরের আক্রমণের শিকার হন, ভ্যাকসিনসহ যাবতীয় স্বাস্থ্য সেবা আমরা প্রদান করে থাকি ।
সিরাজগঞ্জে সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শহিদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, জেলা জুড়েই কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। কুকুরের কামড়ের ঘটনাও বাড়ছে। প্রতিদিন বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৩ থেকে ৪শত জন এই ভ্যকসিনের জন্য হাসপাতালে আসছে। তিনি আরো জানান, আমাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ আছে আতংকিত হওয়ার কিছু নেই।