ভৈরবে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ, দুই মাসে আক্রান্ত ৫ শতাধিক
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই সেপ্টেম্বরে ৮৬ রোগী ভর্তি, ডেঙ্গুতে একমাসেই ২ জনের মৃত্যু
নাজির আহমেদ আল-আমিন,ভৈরব
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঁচ শতাধিক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃবিভাগেই ভর্তি হয়েছেন দুই শতাধিক রোগী। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যুর তথ্যও পাওয়া গেছে।
.png)
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২২ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা ২০ জনের পরীক্ষায় ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, সাতজন নারী ও ১০ জন পুরুষ। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ২৯ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও চারজন শিশু।
এ ছাড়া গত জুলাই থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে আরও তিন শতাধিক ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালেও দুই শতাধিক রোগী ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে। অনেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বাড়িতেও চিকিৎসা নিচ্ছেন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভৈরবে জীদনী সায়হাম ও সৈয়দবানু নামে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগী কামাল মিয়া, শারমিন বেগম ও নজরুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে জ্বর ও শরীর ব্যথা থাকায় তারা হাসপাতালে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে ভৈরবে হামের প্রকোপ কিছুটা কমলেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বেড়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামে আক্রান্ত হয়ে আন্তঃবিভাগে ২২৪ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। বহির্বিভাগে আরও ৩২০ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ৩৬২ জন হাম রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে হাম আক্রান্ত পাঁচজন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আঃ করিম বলেন, ভৈরবে বর্তমানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। গত আগস্টে ১২২ জন ডেঙ্গু রোগী আন্তঃবিভাগে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। সেপ্টেম্বরের ১৩ তারিখ পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ৯৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ২০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ৩৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হচ্ছে।
ডা. আঃ করিম বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করতে হবে। ভোর ও সন্ধ্যার সময়ে এডিস মশার কামড় থেকে বাঁচতে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশু ও বয়স্কদের বিশেষভাবে নজরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।