রূপগঞ্জে খাল পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
তিনি বলেছেন, সরকারি নদী, নালা, খাল, বিল ও জলাশয় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান দখল করে রাখতে পারবে না। দখলদার যতই প্রভাবশালী হোক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে দিনব্যাপী রূপগঞ্জের যাত্রামুড়া, ভুলতাসহ বিভিন্ন এলাকায় নারায়ণগঞ্জ-নরসিংদী অগ্রণী প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
.png)
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দখল ও ভরাটের কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় জলপথের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা বাড়ছে এবং ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। তাই দখল হয়ে যাওয়া জলপথ পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খালের ওপর নির্মিত শিল্পকারখানা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। যেসব জলপথ দখল ও ভরাটের কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোও পর্যায়ক্রমে পুনরুদ্ধার করা হবে।
পরিদর্শনকালে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, একসময় রূপগঞ্জে ব্যাপক ধান উৎপাদন হতো। অপরিকল্পিত নগরায়ণ, জলাশয় ভরাট ও খাল দখলের কারণে কৃষি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে মানুষের জীবনযাত্রাও ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে রূপগঞ্জের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ নষ্ট হয়েছে। খালগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে জলাবদ্ধতা কমার পাশাপাশি কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক খোকন, তারাবো পৌর বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মতিন ভূঁইয়া, যুবদল নেতা মামুনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।