ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

পাগলা মসজিদের ৪৩ বস্তায় মিললো ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:৫৪, ২৭ জুন ২০২৬
পাগলা মসজিদের ৪৩ বস্তায় মিললো ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা
ফাইল ছবি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে দানের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। ছয় মাস পর শনিবার (২৭ জুন) মসজিদের ১৩টি লোহার দান সিন্দুক খুলে ৪৩ বস্তা টাকা পাওয়া গেছে। দিনব্যাপী গণনা শেষে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকারও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল ৭টায় দান সিন্দুক খোলার কার্যক্রম শুরু হয়। রাত সাড়ে ৮টায় রূপালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) রফিকুল ইসলাম গণনা শেষে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

Advertisement

দান সিন্দুক খোলার সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসনা খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ র‌্যাব, পুলিশ ও আনসারের সদস্যরা।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, সব অর্থ মসজিদের নামে খোলা ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়। প্রতিটি টাকার হিসাব অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সংরক্ষণ করা হয় এবং অর্থ আত্মসাতের কোনো সুযোগ নেই। 

তিনি জানান, প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বহুতল মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

জনশ্রুতি আছে, একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের হারুয়া ও রাখুয়াইল এলাকার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদীর মাঝের চরে এক আধ্যাত্মিক পাগল সাধকের বসবাস ছিল। তার মৃত্যুর পর সেখানে নির্মিত মসজিদটি 'পাগলা মসজিদ' নামে পরিচিতি লাভ করে। মানুষের বিশ্বাস, এখানে মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়। এ বিশ্বাস থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসংখ্য মানুষ মসজিদটিতে দান করেন। বিশেষ করে প্রতি শুক্রবার হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে।

বর্তমানে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে মোট ১১৪ কোটি ১৩ লাখ ৭ হাজার ৩৫২ টাকা জমা আছে। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে জমা হয়েছে আরও ২৪ লাখ ৭৬ হাজার ৮৮২ টাকা।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কে কে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!