ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

উন্নয়ন বঞ্চিত মাসকান্দা বাস টার্মিনাল

রিপন গোয়ালা অভি, ময়মনসিংহ 
প্রকাশিত: ০৯:০৮, ২৩ জুন ২০২৬
উন্নয়ন বঞ্চিত মাসকান্দা বাস টার্মিনাল
মাসকান্দা বাস টার্মিনাল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ বাসে করে আসেন ময়মনসিংহে। বাস থেকে নামেন মাসকান্দা বাস টার্মিনালে।  টার্মিনালে নেমে এর পরিবেশ, অবস্থা দেখে বিরূপ ধারণা জন্ম নেয় যাত্রী সাধারণের মাঝে। 

ময়মনসিংহে বিভাগের ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় যাওয়ার কেন্দ্রস্থল শহরের মাসকান্দা বাস টার্মিনাল। বাস টার্মিনালটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া। পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাসগুলো গাদাগাদি করে রাখা হচ্ছে টার্মিনালে। আবার অনেক বাস টার্মিনালে জায়গা না পেয়ে থাকছে সড়কের ওপর। এতে একদিকে বাড়ছে যানজট অন্যদিকে বাড়ছে দুর্ঘটনা।  

শুধু তাই নয়, টার্মিনালের ভেতরের পরিবেশ যাচ্ছেতাই  অবস্থা। প্রবেশ পথ থেকে শুরু করে ভেতরের পুরো অংশ থাকে কাদায় ভরা। টার্মিনালের জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ওয়ার্কশপসহ বিভিন্ন দোকানপাট। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে টার্মিনালের জায়গা। রাত দিন টার্মিনালে আড্ডা চলে বখাটেদের। এতে নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন যাত্রীরা। নেই যাত্রীদের বসার স্থান, ভালো টয়লেট। ফলে যাত্রীদের ভোগান্তীতে পড়তে হয় এখানে।

Advertisement

বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় এখানে ইউনাইটেড এসি, নন-এসি কাউন্টার, সৌখিন পরিবহনের কাউন্টার রয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত এখান থেকে ছেড়ে যায় অনেক বাস। বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার এই টার্মিনালে ভিড় বেশি লক্ষ্য করা যায়। টিকিট কাটতে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। টিকিট কেটে বাসের জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের। এতে শিশু থেকে বয়স্ক বিশেষ করে নারীরা বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

ঢাকাগামী যাত্রী সিরাজ উদ্দিন জানান, অল্প বৃষ্টিতে টার্মিনালে পানি জমে থাকে। রিক্সা থেকে নেমে কাদা পানি পাড়িয়ে ঢুকতে হয় টার্মিনালে। এতে জুতা সহ জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। যদি টার্মিনালের ভিতরের অংশটা আরসিসি ঢালাই করে দেওয়া হত তাহলে এই কাদা পানি থেকে মুক্তি পাওয়া যেত।

ভোরে বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকা যাত্রী আশরাফুল আলম জানান, চাকরির ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ঢাকায় যাওয়া প্রয়োজন। তাই প্রথম ট্রিপের জন্য অপেক্ষা করছি। এত গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হওয়া পরেও এখানে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থা নেই। নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

আরেক যাত্রী মুনমুন সরকার জানান, বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করছি বাসে উঠার জন্য।  এখানে বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি পাবলিক টয়লেট রয়েছে। ১০ টাকা দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু প্রায় টয়লেটের অবস্থা থাকে নোংরা। আবার সেটা ব্যবহার করতে হয় নারী পুরুষ উভয়কেই। এতে নারীদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। বিশুদ্ধ পানিরও ব্যবস্থা নেই। দোকান থেকে টাকা দিয়ে পানি কিনে খেতে হয়। যদি এখানে নারী ও পুরুষদের জন্য আলাদা বিশ্রামাগার ও টয়লেট নির্মাণ করা হয় তাহলে যাত্রীরা উপকৃত হয়।

পরিবহন শ্রমিক মান্নান জানান, স্ট্যান্ডের ভেতর জায়গা কম থাকায় আমাদেরকে গাড়ি রাস্তার ওপর পার্কিং করে রাখতে হয়। এখানে গাড়ির সংখ্যাও অনেক। যদি বাসগুলো রাখার নিয়মের মধ্যে আনা হয় তাহলে সুশৃঙ্খলভাবে রাখা যাবে।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক আলী ইউসুফ জানান, এই মাসকান্দা বাস টার্মিনালকে আধুনিকায়ন করার নামে অনেকবার বহু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু নিম্ন মানের কাজ হওয়ায় সব টাকা ভেস্তে যায়। আরসিসি ঢালাই কয়েকদিন যেতে না যেতে ভেঙে গেছে। কাদা পানি জমে জনসাধারণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা নেই। যাত্রীদের বসার টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। বিভাগীয় শহরের এই আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালটি আধুনিকায়ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

মাসকান্দা বাস টার্মিনাল আধুনিকভাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা জানান ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন। 

তিনি জানান, বাস টার্মিনালের জায়গা দখল করে দোকানপাটসহ বিভিন্ন ওয়ার্কশপ গড়ে উঠেঠে। এরইমধ্যে অবৈধভাবে দখল করে রাখা স্থাপনাগুলো ভেঙে উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যাত্রীদের জন্য নারী-পুরুষ আলাদা এসি বিশ্রামাগার নির্মাণ করা হবে। সেখানে থাকবে আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার৷ জায়গা না থাকায় পানি জমছে। আমরা স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে মাসকান্দার পানি সড়ানোর জন্য আন্ডারপাস ড্রেন নির্মাণ করে তা খালের সঙ্গে সংযোগ করা হবে। যাত্রীরা যেন বাসের জন্য অপেক্ষা করে বিরক্ত না হয় তার জন্য টার্মিনালের প্রবেশ পথ থেকে মূল ভবন পর্যন্ত একটি পার্ক নির্মাণ করা হবে্।  পার্কে থাকবে বসার জন্য জায়গা ও বিভিন্ব ধরনের ফুলের গাছ। আমরা স্থানীয়, বাস মালিক সমিতি, পরিবহন শ্রমিক সমিতি, রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নাগরিকবৃন্দের সঙ্গে কথা বলছি কিভাবে এই জায়গাটা সুন্দর করা যায়। একটি আধুনিক টার্মিনাল তৈরি করতে যা যা উদ্যাগ নেওয়া প্রয়োজন সিটি কর্পোরেশন তা করবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: ময়মনসিংহ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!