মস্তুফা কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মধ্যপাকুন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা। কৃষক মস্তুফার মতো অনেক আলু চাষিই এ প্রতিবেদকের কাছে তাদের হতাশার কথা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকার আলু ক্ষেত ঘুরে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর আলুর ভালো ফলন হয়েছে। বর্তমানে পুরোদমে আলু উত্তোলন চলছে। সার ও কীটনাশকের দামের পাশপাশি অতিরিক্ত শ্রমিক খরচ মিটিয়ে আলুর লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন আলু চাষিরা। উৎপাদন খরচ তুলতে পারবেন কী-না এমন আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। আলু চাষি অনেক চাষি এখন লোকসানের মুখে পড়েছেন।
.png)
কৃষকরা জানান, আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু বাজারে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমে গেছে। পাইকারি বাজারে অনেক জায়গায় আলু বিক্রি হচ্ছে উৎপাদন খরচের চেয়েও কম দামে। বর্তমানে প্রতিমণ আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০০টাকা দরে। বাজার দর না বাড়লে লোকসান গুনতে হবে তাদের।
এক মণ আলু উৎপাদনে যে খরচ হয়েছে, বাজারে সেই দামের অর্ধেকে বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষকরা দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে আগামী মৌসুমে অনেক কৃষক আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন।
আলু চাষি রউফ মিয়া বলেন, দেড় কানি জমিতে আলু চাষ করতে ৫৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ফলন ভালো হলেও বর্তমান বাজার দরে তেমন একটা লাভ থাকবে না।
আলু চাষি মামুন মিয়া বলেন, এবছর আমি ৬বিঘা জমিতে আলুর চাষ করেছি। এতে আমার সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে দুই লাখ ৪০হাজার টাকার মতো। ফলন ভালো হলেও দাম নেই। এতে আমি উৎপাদন খরচ উঠাতে পারব কী-না শঙ্কায় রয়েছি।
তিনি আরো বলেন, সার ও কীটনাশক এবং শ্রমিক খরচ মিটিয়ে কিছুই থাকবে না। আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি দবি জানাই, সরকার যেন এই দিকটায় নজর দেয়। নয়তো অনেক কৃষকই কৃষি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে এবং সর্বশান্ত হয়ে পড়বে।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুরে-ই আলম বলেন, গত মৌসুমে লোকসানের পর কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় আবারো বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন। আমরা কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষ গম ও সরিষা এবং পরিকল্পিত উৎপাদনের বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে ভবিষ্যতে তারা লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারেন।