ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫

বাবা-মা ও বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরল ফাইজা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২২:১৮, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাবা-মা ও বোনদের লাশ মর্গে রেখে একাই দেশে ফিরল ফাইজা
ফাইজা আক্তার -ছবি: সংগৃহীত

‘আমি তো চলে এসেছি, বাবা-মা, আপু ও ছোট বোন সুবাহকে ঈদের আগেই আসতে হবে। আমি অসুস্থ তাই মামার সঙ্গে চলে এসেছি। আমি আর কখনো মাইক্রোতে উঠবো না। আর কখনো বিদেশে যাব না।’

কথাগুলো জানিয়েছে সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মিজানুর রহমান (৪০) ও মেহের আফরোজ সুমীর (৩০) মেজো কন্যা ফাইজা আক্তার (১১)।

একই দুর্ঘটনায় মারা গেছে ফাইজার বড় বোন মোহনা (১৩) ও দেড় বছর বয়সী ছোট বোন সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর। বাবা, মা ও দুই বোনের মৃত্যুর খবর এখনো জানে না দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া একমাত্র শিশু ফাইজা আক্তার।

Advertisement

সে জানে তার মতো দুর্ঘটনার শিকার সবাই চিকিৎসা নিচ্ছে কোনো হাসপাতালে। তারা ঈদের আগেই ফিরে আসবেন। মা-বাবা, বড় বোন ও ছোটবোনদের সঙ্গে একসঙ্গে ঈদ করবে।

দুর্ঘটনার প্রায় ১ সপ্তাহ চিকিৎসা পর সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফাইজার মামা সৌদি প্রবাসী আজহারুল ইসলাম সুমনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামা তানভীর আহম্মেদ ফাইজা আক্তারকে নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। গত দুইদিনে ফাইজাকে দেখতে শতশত মানুষ ভিড় করছেন ফাইজার নানাবাড়িতে।

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরবের হোটেল কফি-শপ ব্যবসায়ী রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের মিজানুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন কন্যাকে পবিত্র ওমরা পালনের জন্য সৌদি আরব নিয়ে যান।

রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সৌদি আরব সময় রাত ৩টা ও বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় ওমরা পালন শেষে সৌদি আরবের আবহা নামক এলাকায় দুর্ঘটনার মিজানুর রহমান ও তার স্ত্রী মেহের আফরোজ সুমী, বড় কন্যা মোহনা (১৩), দেড় বছর বয়সী কন্যা সুবাহসহ গাড়ি চালক মোহাম্মদ জিলানী বাবর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় মিজানুর রহমানের মেজো কন্যা ফাইজা আক্তার মারাত্মক হয়।

সোমবার দুপুরে রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের পাঁচরুখি গ্রামের অসিম উদ্দিন ব্যাপারী বাড়ীর ফাইজার দাদার বাড়িতে গিয়ে কথা হয় চাচা বাহারুল আলমের সঙ্গে। 

এ সময় বাহারুল আলম জানান, আমার ছোট ভাই মিজানের পরিবারের ৪ জন সদস্য সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের মর্গে। তাদের লাশ দেশে আনতে হলে দরকার ১৫-১৬ লাখ টাকা। অনেকেই এসেছেন, শান্তনা দিয়েছেন। কিন্তু লাশগুলো কীভাবে আনতে হবে কেউ বলে না। এত টাকা কোথায় পাবো আমরা। লাশ আনতে না পারলে সৌদি আরবেই হয়তো তাদের লাশ দাফন করতে হবে।

পার্শ্ববর্তী ভোলাকোট ইউনিয়নের তোরাব মিঝি বাড়ির কাতারফেরত মামুন হোসেন দুর্ঘটনায় বেঁচে ফেরা আহত ফাইজা আক্তারের মামা। 

তিনি জানান, আমরা চেষ্টা করছি লাশগুলো দেশে আনার জন্য। কিন্তু অনেক টাকার দরকার। এদিকে আমার বোন জামাই মিজানের ব্যবসায়িক পার্টনারদের আচরণও আমার কাছে খুব একটা পছন্দ হচ্ছে না। তারা একেকবার একেক কথা বলছেন, কোনো ধরনের দায়িত্ববোধ দেখছি না তাদের মাঝে। আমি বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মরতদের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি তারা যেন আমাদের লাশগুলো ফেরত দেয়।

একই দুর্ঘটনায় নিহত হন ভোলাকোট ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন খোকার ছেলে গাড়ি চালক হোসেন মোহাম্মদ জিলানী প্রকাশ বাবর (৩০)।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!