খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত আমন ধান সংগ্রহের অভিযান কার্যক্রম শুরু হয়। এই বছর ৩০১ মেট্রিক টন আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক কৃষক জানান, সরকার ধানের যে দর দিয়েছে, তারচেয়ে বেশি দরে খোলা বাজারে বিক্রি করা যাচ্ছে। তাছাড়া বেশিরভাগ ব্যবসায়ী বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধান ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছেন। সেখানে বিক্রিতে দর ভালো পাওয়া যাচ্ছে। সেইসঙ্গে নেই কোনো ঝামেলাও। যে কারণে তারা সরকারি গুদামে ধান দিতে তেমন বেশি আগ্রহী নন।
.png)
কৃষক মো. আনু মিয়া বলেন, এ মৌসুমে ৭ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। এরমধ্যে ধান কাটা শেষ হয়ে রোদে শুকিয়ে ধান ঘরে তোলা হয়েছে। সরকার প্রতি মণ ধান ১৩২০ টাকা দর দিয়েছে। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ ধান ১ হাজার ৪৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দরের চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় সেখানে ধান বিক্রি করছি।
তিনি আরো বলেন, সরকারি দরে ধান বিক্রি করলে অনেক লোকসান হয়। তাই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করছি।
কৃষক মো. আলাল মিয়া বলেন, নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এ মৌসুমে ৬ বিঘা জমিতে আমন ধান আবাদ করা হয়। শেষ পযর্ন্ত ফলন ভালো হয়। সব ধান শুকিয়ে বিক্রি করতে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, সরকারি গুদামে ধান দিলে ৩৩ টাকা কেজি পাওয়া যায় আর বাজারে সেই ধান ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা যায়। তাছাড়া সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে অনেক ঝামেলাও পোহাতে হয়। তারচেয়ে বাজারে বিক্রি করা অনেক ভালো।
কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, আমরা সরকারি গুদামে এর আগে ধান দিয়েছি। সেখানে যে পরিমাণ ঝামেলা- ধান শুকানো, পরিষ্কার করে নেয়া তাতে এখন গুদামে দেওয়ার চেয়ে বাজারে বিক্রি করলে অনেক বেশি দাম পাওয়া যায়। তাই খোলা বাজারে ধান বিক্রি করা হয়েছে।
আখাউড়া উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত এলএসডি কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, এবার খাদ্যগুদামে ৩০১ মেট্রিকটন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৭ নভেম্বর আমন ধান সংগ্রহের অভিযান কার্যক্রম উদ্ধোধন হয়। চলবে আগামী ২৮ ফেব্রয়ারি পর্যন্ত। যে ধান ক্রয়ে ৩৩ টাকা কেজি দর দেওয়া হয়েছে, একই ধান ৩৭ থেকে ৩৮ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে বিক্রি করছেন কৃষকেরা। দর বেশি পাওয়ায় তারা সরকারি গুদামে ধান তেমন বিক্রি করছেন না।