সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় এ তথ্য জানিয়েছেন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সুপার ডা. হারুন অর রশিদ।
এর আগে, ২৪ ডিসেম্বর হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এইচআইভি এইডসবিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালায় তিনি এ বিষয়ে কথা বলেছিলেন। সেখানেও তিনি একই তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন। তবে কিছু সংবাদমাধ্যম ভুল তথ্য দিয়ে নিউজ প্রকাশ করেছে।
.png)
হাসপাতালের সুপার ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, যে ১২ জন সমকামী এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন তারা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সবাই মাদরাসার ছাত্র এটা মোটেও সত্য নয়। এরমধ্যে একজন নার্সিংয়ে পড়াশোনা করছেন। নার্সিংয়ের শিক্ষার্থীর এমন রোগে আক্রান্ত হওয়া নিয়ে আমি কর্মশালায় আলোচনা করি। কারণ নার্সিংয়ের শিক্ষার্থীরা অন্যদের চেয়ে সচেতন।
তিনি আরো বলেন, এইডস রোগীদের চিকিৎসায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের এআরটি সেন্টার রয়েছে। সেখান থেকে এইডস রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের সামাজিক অবস্থান যেন নষ্ট না হয় সেজন্য আমরা সচেষ্ট আছি। তাদের বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়।
এদিকে ওই কর্মশালার তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে এইডস রোগীর সংখ্যা ১৬ হাজার। ১০ হাজার পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এ রোগী শনাক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে আক্রান্তদের শতকরা ৯৫ ভাগ চিকিৎসার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
সেভ দ্য চিলড্রেনের সহযোগিতায় পিএলএইচআইভি নেটওয়ার্ক (পিএন প্লাস) এবং আশার আলো সোসাইটি (এএএস) এ কর্মশালার আয়োজন করে।
কর্মশালায় জানানো হয়, সম্প্রতি সমকামীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা আগের চেয়ে বেশি খোলামেলা চলাফেরা করছে এবং যত্রতত্র আড্ডা দিচ্ছে। যেখানে বাধা দেওয়ার কেউ নেই। শিক্ষার্থীরা পূর্বের তুলনায় বেশি স্বাধীন চলাচলে অভ্যস্ত হচ্ছে। এক ধরনের পাশ্চাত্য ভাবধারায় তারা চলাফেরা করছে। এতে করে সমাজ এক ভয়াবহতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
কর্মশালায় পিএন প্লাসের জেনারেল সেক্রেটারি মো. হাফিজউদ্দিন মুন্না তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেন।
বক্তারা বলেন, এইডস আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে উঠা-বসা দোষের নয়। তাদের সঙ্গ দেওয়া যায়। এ ধরনের রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। অন্যের ব্যবহার করা সিরিঞ্জ থেকেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।