জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলায় মোট ১০০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৩ হাজার ৬৯২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং ৬৮৭ জন সহকারী শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও প্রধান শিক্ষক রয়েছে ৬১ জন এবং সহকারী শিক্ষক আছে ৬৭০ জন। অর্থাৎ ৩৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই আর শূন্য রয়েছে ১৭টি সহকারী শিক্ষকের পদ। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক না থাকায় এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে জানান দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকরা।
সরেজমিন উপজেলার আরামবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ২ নম্বর ঈশ্বরদী সাঁড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আসনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানকারী শিক্ষক। একসঙ্গে দুটি পদের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে ব্যর্থ হচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীরা গল্প ও খেলাধূলায় মেতে আছেন।
.png)
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে থাকা মোছা. রেহেনা খানম ও শহিদুল ইসলাম বলেন, একসঙ্গে দুটি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাদের। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিদ্যালয় পরিচালনা করতে দাফতরিক কাজের জন্য ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছেন বলেও তারা জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোছা. ফারহানা খাঁন জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শূন্য পদের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সহকারী শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। আশা করছি এসব সংকট খুব শিগগিরই কেটে যাবে।
শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই নয় জানা গেছে, এ উপজেলার শিক্ষা অফিসেও ২ জন সহকারী শিক্ষা অফিসারসহ মোট ৫টি পদ শূন্য রয়েছে। দ্রুত এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনটাই প্রত্যাশা সবার।