গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাটিরাঙ্গার বলিটিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাশ দিয়ে বয়ে চলা ড্রেন পাশেই একটি মাঠ। নিত্যদিন কমলমতি শিক্ষার্থীরা এই মাঠে খেলাধুলা করে। মাঠের শেষ প্রান্তে একটি ড্রেন রয়েছে যেখানে অধিকাংশ জায়গাজুড়ে উন্মুক্ত হওয়ার কারণে মারাত্মক বিপদ এবং চরম ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থী এবং পথচারীদের চলাচল করতে হয়।
এদিকে, ড্রেনের উপরে ঢাকনা না থাকার কারণে অসচেতন জনসাধারণ অবাধে ময়লা-আবর্জনা মশা-মাছিসহ পচা মরা কাক, ইঁদুর ফেলছেন। তাছাড়া চৌধুরীপাড়ায় ঘনবসতি হওয়ার কারণে ড্রেনটি স্কুলের মাঠের সীমানা থেকে শুরু হয়ে চৌধুরীপাড়ায় বসবাসরত জনসাধারণের বাসার পাশ দিয়ে মাটিরাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতর হয়ে ধলিয়া খালে গিয়ে পড়েছে। ড্রেনটি ঢাকনাবিহীন হওয়ায় ওই এলাকার লোকজন ঝুঁকিতে বসবাস করছেন। ফলে ময়লা, দুর্গন্ধে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশার আতঙ্কে দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
.png)
অপরদিকে, ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় পথচারী, শিক্ষার্থী ও বসবাসকারীর জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। দিনে সাবধানতা অবলম্বন করলেও রাতের অন্ধকারে ঢাকনাবিহীন ড্রেনে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। ড্রেনে পথচারী পড়ে যাওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে বহু। ওই সড়কে পথচারীসহ শিশু, স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা হাঁটলে আতঙ্কে থাকে, কখন কে পড়ে যায় ড্রেনে। মানুষের চলাচলের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে ড্রেনটি।
ওই এলাকার বাসিন্দা কাওসার সোহেল জানান, ড্রেনটি তার বাড়ির পাশ হয়ে ধলিয়া খালে মিলেছে। এর উপরে ঢাকনা না থাকায় তাদের দুর্ভোগ আর ভোগান্তির শেষ নেই। আশেপাশের সবাই বাড়ির সব ময়লা-আবর্জনা, টয়লেটের ময়লা, দুর্গন্ধযুক্ত পানি ড্রেনেই ফেলেন। ফলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে বসবাস করছেন তারা। শিগগিরই ড্রেনের উপরিভাগে ঢাকনা নির্মাণ করতে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এনামুল হক নামের একজন জানান, স্কুলের সামনের এলাকার রাস্তায় ঢাকনাবিহীন ড্রেন শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূণ। স্কুল ছুটির পর তাড়াহুড়ো করে শিক্ষার্থীরা বের হয়। অসাবধানতাবশত কোনো শিক্ষার্থী ড্রেন পড়ে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ড্রেনে দ্রুত ঢাকনা নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, ঢাকনাবিহীন ড্রেন সত্যি ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি সরেজমিনে তদন্তপূর্বক জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় দুর্ঘটনা এড়াতে ড্রেনের উপর ঢাকনা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হবে।