মাদারীপুরের শিবচরের উৎরাইল নয়াবাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রাণীটি ধরা পড়ে। প্রাণীটির ওজন প্রায় ৩-৪ কেজির মতো হবে বলে ধারণা করা হয়। সজারু দেখতে ভিড় জমান স্থানীয়রা।
এলাকাবাসী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর শিবচরের উৎরাইল এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদে সাঁতার কেটে উৎরাইল পাড়ে এসে উঠে সজারুটি। পরে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়লে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি সজারুটিকে ধরে বেঁধে ফেলে। পরে নদের পাড়ে দোকানের সামনে নিয়ে এলে লোকজন ভিড় করে সজারুটি দেখতে। বেশ কিছুক্ষণ পর নদের পাড়ের ঝোপঝাড়ের কাছে সজারুটি অবমুক্ত করে দেন তারা। নদের পাড়ে কাশবনসহ উৎরাইল নয়াবাজার সংলগ্ন এলাকায় সজারুর বিচরণ রয়েছে বলে জানা গেছে।
.png)
স্থানীয় দোকানদার মো. শামীম হোসেন বলেন, নদীর পাড় থেকে সজারুটি ধরে নিয়ে আসে এলাকার ২-৩ জন লোক। এখানে কিছুক্ষণ বেঁধে রাখা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে নদীর পাড়ের কাশবনের কাছে ছেড়ে দেয়। তাছাড়া এই এলাকায় প্রায়ই সজারুর দেখা মেলে। রাতে দল বেঁধে সজারু খাবারের সন্ধানে বের হয়। আমাদের বাড়ির কচুগাছ খেয়ে সাবাড় করে ফেলেছে।
তিনি আরো বলেন, প্রায়ই সজারুর কাঁটা পড়ে থাকতে দেখি বাড়ির আনাচে-কানাচে। দিনে কখনো দেখা যায় না।
জানা গেছে, তীক্ষ দন্ত এবং সমস্ত শরীরে কাঁটাযুক্ত একটি স্তন্যপায়ী প্রাণী এই সজারু। যা বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় হিসেবে গণ্য।
উইকিপিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, এ ধরনের সজারুকে দেশি বা ভারতীয় সজারু বলা হয়। কখনো কখনো এটিকে তীক্ষ্ণ দন্ত বিশিষ্ট ইঁদুর হিসেবে গণ্য করা হয়। নিরামিষভোজী জীব হিসেবে এটি পাতা, ঘাস, ছোট ছোট গাছপালা খেয়ে জীবনধারণ করে। গায়ের রঙ কালো প্রকৃতির হয়। মাটিতে গর্ত খুঁড়ে বাসস্থানের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে। এদের জীবনকালের সঠিক সময়কাল পাওয়া যায়নি। খাবার সংগ্রহের জন্য এরা বিভিন্ন ধরনের গাছপালার পাশাপাশি ফলমূল, শস্য, গাছের শিকড় পর্যন্ত এরা খেয়ে ফেলে।