উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ২৮ মার্চ আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন গাইনি বিভাগের চিকিৎসক রোকেয়া বেগম। যোগদানের পর থেকে ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে আসলেও তবে বেশিরভাগ সময় তিনি স্বল্প সময় থেকে আবার চলে যেতেন। রোগী দেখার বিষয়েও তার তেমন কোনো আগ্রহ ছিল না। কোনো রোগী তার কক্ষে পাঠালে বিরক্ত বোধ করতেন তিনি। ২০২৪ সালের ২৪ জানুয়ারি পর থেকে টানা ১০ মাস ধরে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদানের জন্য একাধিক চিঠি দিলেও কোনো সাড়া পায়নি। বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়কেও অবহিত করা হয়। এরই মধ্যে জানা যায়, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। তবে এ জন্য তিনি কোনো ধরনের অনুমতি নেননি কিংবা যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেননি।
.png)
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলা রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ১টি পৌরসভা ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। যার আয়তন রয়েছে প্রায় ১০২.১১ বর্গ কিলোমিটার। এ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নতি করা হয় । পৌর শহরসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নসহ সদর উপজেলার বেশ কিছু এলাকার প্রায় ২ লাখের বেশি মানুষ এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসক সেবা নিয়ে আসছে।
একাধিক রোগী জানায়, এই স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে একজন গাইনি চিকিসক থাকলেও তিনি দীর্ঘ দিন ধরে না আসায় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হিমেল খান বলেন, আমি এ হাসপাতালে দ্বিতীয়বারের মতো যোগ দিয়েছি। প্রথমবার দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই চিকিৎসক রোকেয়া বেগম অনুপস্থিত ছিলেন। একাধিক চিঠি দিয়েও সাড়া পাইনি। পরে অন্য মাধ্যমে জানতে পেরেছি তিনি অস্ট্রেলিয়ায় চলে গেছেন। গত সপ্তাহে আমি যোগদান করেও দেখি, তিনি অনুপস্থিত। তার পদটি খালি করে যেন আরেকজনকে পদায়ন করা হয় সেই বিষয়ে সিভিল সার্জনের কাছে পুনরায় চিঠি লেখা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সিভিল সার্জন মো. নোমান মিয়া বলেন, ওই চিকিৎসকের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তিনি ফোনও ধরেন না কিংবা কোনো চিঠিরও জবাব দেয়নি। তিনি দেশে আছেন কী নেই সেটাও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, কাগজে-কলমে এখনো ওই চিকিৎসক আখাউড়াতে কর্মরত। তবে তার বেতন-ভাতা সব বন্ধ আছে। শুনেছি মাঝখানে তিনি ডেপুটেশনে ঢাকার হাসপাতালে যোগদানের আদেশ করান। কিন্তু এ বিষয়ে তিনি কিছু অবগত করেননি কিংবা আমরা এ সংক্রান্ত কোনো চিঠিও পাইনি। তার জায়গায় যেন আরেকজনকে পদায়ন করা হয়, সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি লিখব। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে যেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় সেটি লেখা হবে।