তবে শিক্ষক-ছাত্রী দুজনেই তাদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী নিজেও শিক্ষকতা করছেন। আর শিক্ষক একটি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি শেষে অবসরপূর্ব ছুটিতে রয়েছেন।
ওই ছাত্রী জানান, তিনি ১৯৯৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। ১৯৯৫ সালে তিনি ওই শিক্ষকের কাছে উচ্চতর গণিত বিষয়ে প্রাইভেট পড়েন। সে সময় সব মাসের টিউশন ফি পরিশোধ করলেও শেষ মাসের টাকা পরিশোধ করতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে মাঝে মধ্যেই তার মনের মধ্যে অপরাধবোধ কাজ করতো। রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে হঠাৎ বাসার পাশ দিয়ে তার সেই শিক্ষককে হেঁটে যেতে দেখে স্বামীকে দিয়ে ডাকান।
.png)
এরপর প্রিয় সেই শিক্ষকের কাছে বিষয়টি খুলে বলেন এবং বকেয়ার টিউশন ফি পরিশোধ করতে চান। শিক্ষক বিষয়টি ভুলে গেছেন বলে জানিয়ে সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে ছাত্রীর বিশেষ অনুরোধে সেই টাকা গ্রহণ করেন এবং ওই ছাত্রীর জন্য দোয়া করেন।
সেই ছাত্রী বলেন, শিক্ষক হলেন শ্রদ্ধারপাত্র। তার ঋণ কখনও পরিশোধযোগ্য নয়। তবুও তার পরিশ্রমের বকেয়া টাকা দীর্ঘদিন পরে হলেও পরিশোধ করতে পেরে নিজেকে হালকা লাগছে। ব্যক্তিগত জীবনে ওই ছাত্রী বর্তমানে শিক্ষকতা করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। তিনি সবার দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
এ বিষয়ে শিক্ষক জানান, এমন বিরল ঘটনা তার জীবনে এর আগে কখনো ঘটেনি। তবে ছাত্রীর এমন মহানুভবতায় বেশ খুশি হয়েছেন বলেও জানান তিনি।