ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

প্রথম স্ত্রীর টাকায় চাকরি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে শফিকুল লাপাত্তা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৫:৫২, ১৫ নভেম্বর ২০২৪
প্রথম স্ত্রীর টাকায় চাকরি নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে শফিকুল লাপাত্তা
ছবি: প্রতীকি

দিনাজপুরে প্রথম স্ত্রীর টাকায় চাকরি নিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে লাপাত্তা হওয়ার অভিযোগ উঠেছে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। সম্প্রতি জেলার পার্বতীপুর পৌর শহরের রুস্তমনগর মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এতে এক সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন স্ত্রী কল্পনা খাতুন। এমতাবস্তায় স্বামী-সন্তানের বাবার পরিচয়ের পাশাপাশি শাস্তির দাবিতে আদালতের দ্বারস্ত হয়েছেন ভ‍ুক্তভোগী ওই নারী।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের রোস্তমনগর এলাকার মৃত মোজাম্মেল হকের মেয়ে কল্পনা খাতুনের সঙ্গে বাবুপাড়া মহল্লার আব্দুস সাত্তারের ছেলে শফিকুল ইসলামের প্রেমের সম্পর্ক হয়। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রয়ারিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা। বিয়ের পর নানান চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ভালোই কাটছিল তাদের জীবন। পরবর্তীতে এই দম্পত্তির কোলজুড়ে আসে সৌমিক হাসান নামে এক ছেলে সন্তান।

ভুক্তভোগী কল্পনা খাতুন জানান, বিয়ের পর বেকার স্বামী শফিকুলের কষ্ট কিছুটা লাঘবের পথ খুঁজতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে তার সরকারি চাকরির সুযোগ এলেও অর্থাভাবে তা অনিশ্চিত হওয়ার উপক্রম হয়। ধার-দেনা করে বিভিন্ন স্থান থেকে তিন লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করে স্বামীর হাতে তুলে দেন। পরবর্তীতে স্বামীর স্বপ্নের সেই চাকরিই তার সংসারে কাল হয়ে দাঁড়ায়। এর পর থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে শফিকুল নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে গা ঢাকা দেন।

Advertisement

কল্পনা খাতুন আরো জানান, এর পর নিজেকে অবিবাহিত পরিচয়ে প্রথমে পার্বতীপুর পৌর শহরের নামাপাড়া মহল্লায় বিয়ে করেন। পরে কল্পনার বিয়ের ঘটনা জানাজানি হলে তা ভেঙে যায়। এর কিছুদিন পর কল্পনা গর্ভবতী হলে চাকরির সুবাদে লালমনিরহাটে বদলি হন শফিকুল। কুড়িগ্রামে তৃতীয় বিয়ে করে কল্পনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন।

কল্পনা খাতুন নিরুপায় হয়ে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়-অত্যাচারের ঘটনায় শফিকুলের শাস্তির দাবিতে আদালতে মামলা দায়ের করেন। চতুর শফিকুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত হয়ে একাধিকবার বিজ্ঞ বিচারকের সামনে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিনে মুক্ত হন। তবে এ ঘটনায় মীমাংসা না করায় গত সপ্তাহের রোববার হাজিরা দিতে গেলে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, শফিকুল বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পথ দফতরে ওয়েম্যান পদে কর্মরত।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ফলে তাদের মতামত জানা যায়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী/পথ মো. পলাশ হোসেন জানান, ঘটনা প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত শফিকুলের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!