শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে দুইজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে পুলিশ। এর আগে, শুক্রবার রাতে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতেরা হলো- ফরিদগঞ্জ উপজেলার সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়নের শোল্লা গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে আবুল ওসমান এবং একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ফাহিম।
.png)
স্বজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য সৈকত মোল্লা জানান, আবুল ওসমান এ বছর স্থানীয় একটি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছে। সে সম্প্রতি মুঠোফোনের মাধ্যমে বরিশালের একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে পরিবারের লোকজন তাকে বকাঝকা করে। শুক্রবার বিকেলে পরিবারের সবাই মিলে এক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াতে যায়। সেখান থেকে আবুল ওসমান সবার আগে বাড়িতে চলে আসে। রাতে তার বাবা বাড়িতে এসে দেখেন, সে ঘরের আড়ার সঙ্গে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলে আছে। পরে তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এসে পুলিশে খবর দেয়।
তারা আরো জানান, ফাহিম নামের কিশোরটি স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল। গত কয়েক মাস আগে সে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে একটি বিস্কুট ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু করে। সেও একটি মেয়ের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়ে পরিবারের লোকজনকে বিয়ের জন্যে চাপপ্রয়োগ করে। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়ায় তার পরিবারের লোকজন তাকে বিয়ে দিতে রাজি হয়নি। সে শুক্রবার সন্ধ্যায় কীটনাশক পান করলে পরিবারের লোকজন টের পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসক ফাহিমকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মো. হানিফ সরকার বলেন, খবর পেয়ে দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্যে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। অপ্রাপ্তবয়স্ক এই দুই কিশোরের প্রেম সংক্রান্ত কারণে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।