পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে শতাধিক বেওয়ারিশ কুকুর রয়েছে। যার মধ্যে বেশ কিছু কুকুরের শরীরে ঘা সৃষ্টি হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখা গেছে। পৌরশহরের প্রায় সব কটি অলি-গলি এবং সড়কে এ ধরনের রোগাক্রান্ত কুকুরের দেখা মিলছে। তবে এসব কুকুরের চিকিৎসায় কেউ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না।
লালমোহন পৌর সুপার মার্কেটের প্রবেশদ্বারের চা দোকানি মো. ইউসুফ (ভুট্ট) জানান, মার্কেটের অনেক দোকান বন্ধ থাকায় এখানে রোগাক্রান্ত কুকুরগুলো এসে বিশ্রাম নেয়। তবে এসব কুকুরের শরীরের বড় বড় ঘা থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে এসব কুকুরের পাশ দিয়ে হাঁটা বা থাকা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এসব কুকুরের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
.png)
লালমোহন সদর রোডের একটি বিরিয়ানির দোকানের মালিক বলেন, দোকানের সামনে দিয়ে রোগাক্রান্ত এসব কুকুর যাওয়ার সময় অনেক দুর্গন্ধ ছাড়ায়। অনেক সময় এই দুর্গন্ধে বমির উপক্রম হয়। দোকানের সামনে এসব রোগাক্রান্ত কুকুর দাঁড়ালে আমরা সেগুলোকে তাড়িয়ে দিই। কারণ এই কুকুর দোকানের সামনে দাঁড়ালে ক্রেতারা দোকানে ঢুকতে চান না।
পৌরশহরের মো. জুবায়ের নামে এক পথচারী জানান, বাজারে এসেছি কিছু কাজে। এসে কয়েকটি কুকুরের শরীরে বড় বড় ক্ষত দেখেছি। কুকুরগুলোর ওসব ক্ষতস্থান থেকে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যার জন্য কুকুরগুলো পাশ দিয়ে গেলে বমি করে দেওয়ার পালা হয়। এসব কুকুরের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া দরকার।
‘মানবতার পাশেই আমরা’ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মো. শামিম রেজা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিগত কয়েকদিন ধরে পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে রোগাক্রান্ত কুকুর দেখছি। কুকুরগুলোর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ক্ষতর সৃষ্টি হয়েছে। ওসব ক্ষত স্থান থেকে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ সবাই। তবে এসব কুকুর অবলা প্রাণী। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদেরও হয়তো কষ্ট হয়। তাই এসব কুকুরকে রোগের দোহাই দিয়ে হত্যা না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ রইল।
লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাজন আলী জানান, রোগাক্রান্ত কুকুরের অধিকাংশই বেওয়ারিশ। যার জন্য এগুলোর তেমন যত্ন নেয়া হয় না। তাই এসব কুকুর নানান সময় বিভিন্ন ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তবে কোনো রেস্কিউ টিম এগুলো উদ্ধার করে আমাদের এখানে আনলে আমরা রোগাক্রান্ত কুকুরগুলোকে চিকিৎসা দেব। এছাড়া পৌরসভার পক্ষ থেকেও এসব কুকুরের চিকিৎসায় উদ্যোগ নেয়া হলে আমরা তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌরসভার প্রশাসক মো. তৌহিদুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে শিগগিরই এসব রোগাক্রান্ত কুকুরের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।