যশোর পৌরসভার তথ্যমতে, যশোর ইনস্টিটিউট মার্কেটসহ অন্তত শতাধিক জরাজীর্ণ ভবন ও মার্কেটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। ২০১৩ সালে পৌরসভার তৎপরতার কারণে ঝুঁকির তালিকায় থাকা ১৮০টির মধ্যে ১২০টি ভবন ভেঙে ফেলা হয়। তালিকাভুক্ত অবশিষ্ট ৬০টি ভবন দীর্ঘ দিনেও ভাঙা হয়নি। দিনে দিনে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা ৬০ ছাড়িয়ে বর্তমানে শতাধিকে উপনীত হয়েছে। তালিকার বাইরে থাকা বহু পুরাতন ভবনের পলেস্তারা ও ছাদ খসে পড়লেও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় না থাকায় ভবনগুলো মানুষ নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শহরের এমএম আলী রোডের ওই মার্কেটটি ১৯৭৪ সালে বাণিজ্যের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ দশকের পুরোনো এই মার্কেটটি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় আছে।
.png)
সরেজমিনে মার্কেটিতে গিয়ে দেখা যায়, মার্কেটটিতে ৪১টি দোকান রয়েছে এবং দ্বিতীয়তলায় একটি বেসরকারি হাসপাতাল রয়েছে। বেশ কয়েকটি দোকানের সামনে ও ভেতরে পলেস্তারা ধসে পড়ে ছাদের রড বের হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যেই পলেস্তারা খসে পড়ছে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মাথার উপর।
মার্কেটের ৬নং দোকানে জামান ফার্মেসি। দোকানে ওষুধ কিনতে এসে গত সোমবার মাথায় পলেস্তারা পরে আহত হন। ওই মার্কেটে আসা ক্রেতারা মাঝে মধ্যেই এমন দুর্ঘটনার শিকার হন। এতে দিনেদিনে ব্যবসায়ীরা ক্রেতা হারিয়ে ফেলছেন বলে জানান।
জামান ফার্মিসির সত্ত্বাধিকারী আব্দুস সালাম বলেন, মার্কেটটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বেশ কয়েকবার লিখিত আকারে যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক বরাবর পত্র দিয়েছি। যার রিসিভ কপি আমার কাছে আছে। মার্কেটটিতে প্রায়ই ছাদের পলেস্তারা ও ছাদের কার্নিশ খসে পড়ে। এখানকার ব্যবসায়ীরা জীবন ও জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে দোকান খুলে বসে থাকি। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আতঙ্কে ক্রেতারা দূরে দাঁড়িয়ে কেনাকাটা করেন। দোকানের কর্মচারীরা পলেস্তারা মাথায় পড়ার ভয়ে চাকরি করতে চান না। পলেস্তারা খসে পড়ে দোকানের মালমালও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মেডিকেল স্টোরের মালিক মনিরুজ্জামান মুকুল ও জামান স্যানেটারির ম্যানেজার বিপ্লব হাওলাদার বলেন, এই মার্কেটে ৪১ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এখানে কেনাকাটা করতে আসেন। ছাদের প্লাস্টারের টেম্পার নষ্ট হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যেই পলেস্তারা ও কার্নিশ খুলে খুলে পড়ছে। নিজ উদ্যোগে সংস্কার করছি। তারপরও সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
এ বিষয়ে যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, মার্কেটে সংস্কার প্রয়োজনের বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কোনো দোকানদার বা অন্য কেউ কখনো আমাকে জানায়নি। বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। সরেজমিনে গিয়ে খুব দ্রুত এর সমাধান করা হবে।