সাবেক স্ত্রীর হয়রানির শিকার ব্যবসায়ী
বাগেরহাটে নানা রকম মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে সাবেক স্বামীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মাহিরা খাতুন নামে এক নারী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে। নিয়ম মেনে তালাক দিয়েও সাবেক স্ত্রীর হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না মিজানুর রহমান নামে এই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
হয়রানির শিকার মিজানুর রহমান ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া গ্রামের মৃত বুরজুক আলী খানের ছেলে। অভিযুক্ত মাহিরা খাতুন বাগেরহাটের ফকিরহাটের জাড়িয়া বারুইডাঙ্গা এলাকার আহাদ আলী শেখের মেয়ে।
হয়রানির শিকার মিজানুর রহমান বলেন, ২০১৬ সালের ১৫ এপ্রিল পারিবারিকভাবে আমাদের বিয়ে হয়। আমাদের সংসারে একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। কিন্তু ২০২৩ সালের প্রথম দিকে আমার স্ত্রী আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে এবং একপর্যায়ে আমার গায়ে হাত তোলা শুরু করে।
এসব সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে এবং শান্তিতে বসবাসের জন্য চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক আমার স্ত্রীকে তালাক দেই। তালাকের নোটিশ পেয়ে ১১ জুন আমার স্ত্রী ও তার বাবা আহাদ আলী শেখ আমাদের বাড়িতে আসে। জোর করে ঘরে ঢুকে দুটি স্বর্ণের কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের বালা ও নগদ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এ বিষয়ে ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, মামলাটি দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ৩০ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমাকেসহ আমার পাঁচজন নিকট আত্মীয়কে আসামি করে একটি মিথ্যা মামলা দেয় আমার সাবেক স্ত্রী।
ওই মামলায় আমার সাবেক স্ত্রী মাহিরা খাতুন উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার বাড়িতে মীমাংসার পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হারুণ-অন রশীদের উপস্থিতিতে তাকে কালো মাইক্রোবাসে তুলে ঝালকাঠি যাওয়ার পথে গাড়িতেই তাকে বিষ খাইয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। একপর্যায়ে তাকে নলছিটি বা ঝালকাঠির কোনো স্থানে মৃত ভেবে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। আসলে আমার দেওয়া মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে ও আমাকে হয়রানি করার জন্য এসব মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়েছে। ওই বাড়িতে কোনো মীমাংসা হয়নি। আমরা তাকে গাড়িতে করে ঝালকাঠি নেয়ার চেষ্টাও করিনি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহিরা খাতুনকে ফোন করা হলে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে মামলার বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি।
লখপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হারুণ-অন রশীদ বলেন, মাহিরার বাড়িতে কোনো সালিশ বৈঠকে আমি ছিলাম না। স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক কলহের বিষয়টি শুধু মৌখিকভাবে জানতাম।