নিহত স্মৃতি রাণী পাল ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার দৌলতপুর গ্রামের সুনীল পালের মেয়ে। দুই বছর আগে পারিবারিক সম্মতিতে তার সঙ্গে শ্রীপুরের কাব্য সরকারের বিয়ে হয়। তাদের একটি এক বছরের পুত্রসন্তান রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের কারণে কাব্য তার স্ত্রী ও সন্তানসহ শ্রীপুরের বরমী বাজারের কামারপট্টিতে নানার বাড়িতে বসবাস করতেন।
স্মৃতির স্বামী কাব্যের প্রতিবেশী এবং শ্রীপুর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন জানান, রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ চিৎকার শুনতে পেয়ে গোপাল মিস্ত্রির বাড়িতে গিয়ে স্মৃতিকে বারান্দায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসক স্মৃতিকে মৃত ঘোষণা করেন।
.png)
স্মৃতির বাবা সুনীল পাল বলেন, আড়াই বছর আগে পারিবারিকভাবে আমাদের মেয়ের বিয়ে দেই। বছরখানেক পর একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে স্মৃতির সঙ্গে শেষবার কথা হয়। সে জানায় তার স্বামী ভারতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। রাত ১০টার দিকে কাব্য ফোন করে জানায় স্মৃতির কিছু হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে মেয়ের মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পারি। মেয়ের আঘাত পাওয়ার খবর পেয়ে কাব্য ভারত যাওয়ার পথ থেকে ফিরে আসে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বলেন, রাত পৌনে ১১টার দিকে স্মৃতিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার ঘাড়ে ধারালো কোনো অস্ত্রের আঘাতে গভীর ক্ষত ছিল এবং ডান হাতের কব্জির কাছেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আমরা এরকম ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে চাইনি। রাতের বেলা এমন নৃশংসভাবে গৃহবধূকে হত্যার ঘটনা আমাদের মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই ধরনের ঘটনা আর না ঘটুক, আমরা চাই পুলিশ যথাযথভাবে তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করুক।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত হাসপাতালে যাই এবং লাশ উদ্ধার করি। ঘটনাস্থল থেকে একটি রক্তমাখা ধারালো নতুন দা এবং এক জোড়া জুতা উদ্ধার করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহিদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নিহতের স্বামী কাব্য সরকারসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনায় রেখে তদন্ত শুরু করেছি এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছি।
স্মৃতি রাণী পাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা প্রতিটি দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজনদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এলাকার মানুষ দ্রুত এই ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন।