চলতি বছরে দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে সবার হৃদয় নাড়া দেয় ময়মনসিংহ সদরের আলালপুর এলাকায় বাস ও অটোরিকশার সংর্ঘষে সাতজনের মৃত্যুর ঘটনা।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনায় গাড়ির ভেতরে স্বামী- স্ত্রীসহ শিশু সন্তান মারা যায়। এ সময় মায়ের কোলেই মৃত অবস্থায় ছিল শিশুটি। অটোরিকশাটি ফুলপুর থেকে ময়মনসিংহের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা শেরপুরগামী একটি বাসের সাথে মুখোমুখি সংর্ঘষ হলে অটোচালকসহ ঘটনাস্থলেই সাত যাত্রী মারা যান।
.png)
গত ১৩ জানুয়ারি বেলা ১২টার দিকে নান্দাইলের বাহাদুরপুর এলাকায় মাইক্রোবাস চাপায় মোটরসাইকেল চালক নুর আহমেদ নামে পুলিশের এক এএসআই নিহত হন। নুর আহমেদ নেত্রকোণার মদন উপজেলার পুলিহাটি গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে। তিনি তিন বছর যাবত নান্দাইল মডেল থানায় এএসআই পদে কর্মরত ছিলেন।
৯ এপ্রিল ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় সদরে তিনজন, ত্রিশালে চারজন ও তারাকান্দায় একজন মারা যান। নিহতদের মধ্যে তিনজন ছিলেন একই পরিবারের। ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরছিলেন তারা।
২৯ জুন সকাল পৌনে ৬টার দিকে ভালুকা উপজেলার সিডস্টোর বাজারের ঢালিবাড়ী মোড়ে বালুবাহী ড্রামট্রাক ইউটার্ন নেয়ার সময় ঢাকাগামী এনা পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসচালক স্বপন খান মারা যান। আহত হন বাসের কয়েকজন যাত্রী।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ময়মনসিংহ বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, এই কার্যালয়টির অধীনে রয়েছে ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ জেলা। এই পাঁচ জেলায় ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১ হাজার ৬৭১টি দুর্ঘটনায় আহত হন ২ হাজার ২৫৭ জন এবং মারা যান ৫৬৮ জন। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলায় ২০২১ সালে ৪১৭ দুর্ঘটনায় ৬৪২ জন আহত ও ৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার মধ্যে চারটি উপজেলাকে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে ফায়ার সার্ভিস। এগুলো হচ্ছে- ত্রিশাল, ভালুকা, নান্দাইল ও ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা। চারটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ ত্রিশাল। এই উপজেলায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ৩১৮টি দুর্ঘটনায় ৫০২ জন আহত ও ৫০ জন নিহত হয়েছেন।
নাগরিকরা জানান, জেলার সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা নেই। চালকরা যেভাবে মন চায়, সেভাবেই গাড়ি চালাচ্ছে। সড়কের আইনকানুন সম্পের্ক ধারণা নেই চালকদের। ভাঙা-চোরা রাস্তায় সিগারেট টানতে টানতে গাড়ি চালাতেও দেখা যায়। সড়কে নিয়মিত ঘটছে হতাহতের ঘটনা।
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন ময়মনসিংহের সভাপতি আবদুল কাদির চৌধুরী বলেন, সড়কে গাড়ি চলাচলের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে ধীরে ধীরে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে। পাশাপাশি সড়ক পারাপারে মানুষকে সচেতন হতে হবে।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী কে বি এম সাদ্দাম হোসেন বলেন, সড়কের কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তাহলে সে বিষয়ে আমরা পদক্ষেপ নিই। সড়ক বিভাজক অবৈধভাবে কাটার পর বন্ধ করা হয়েছে। তারপরও আবার কিছু কাটা হয়েছে। এসব রোধে কয়েক মাস আগে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মতিয়ার রহমান বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ তিন চাকার যান। এছাড়া সড়ক বিভাজক অবৈধভাবে কেটে ইউটার্ন, উল্টো পথে গাড়ি চলা, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, ওভার টেকিং, অদক্ষ চালক, বড় গাড়ির সঙ্গে দ্রুত গতিতে চলা তিন চাকার যানের কারণেই ঘটছে দুর্ঘটনা।
ভালুকার ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মহাসড়কে চলাচল করা অবৈধ গাড়িগুলোকে নিয়মিত আটক করে মামলা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া দুর্ঘটনা রোধে চালকদেরও সচেতন থাকতে হবে।