কৃষকরা বলছেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর প্রভাব পড়বে বোরো আবাদেও। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
জানা যায়, অক্টোবরের শুরুতেই অতিবৃষ্টি ও উজনের পাহাড়ি ঢলে একে একে তলিয়ে যায় দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, পূর্বধলা ও সদরের নিম্ন এলাকার ফসলি মাঠগুলো। পানি বাড়তে থাকে উজানের ঢল রূপ নেয় বন্যায়। এতেই কপাল পুড়ে যায় কৃষকদের। তবে এখন বন্যার পানি নেমে গেলেও সবুজে ঘেরা ফসলের মাঠ পাল্টে গেছে পচা স্তূপে। বন্যার পানিতে ধানক্ষেত পুরোপুরি ডুবে থাকায় পৌঁছে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের জমিগুলো। বেশির ভাগ জমিতেই ধানের চিটা আসতে শুরু করলেও সেগুলো আর রক্ষা হয়নি। এমন চিত্র নেত্রকোণার অন্তত পাঁচ উপজেলার।
.png)
এরমধ্যে চলতি রোপা আমনের উপজেলা দুর্গাপুরে প্রায় ১৬ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে আকস্মিক বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির ফসল। ফলে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় একশ কোটি টাকা। একই অবস্থা কলমাকান্দা, সদর, পূর্বধলা ও বারহাট্টা উপজেলার। সব মিলিয়ে জেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩১৫ কোটি টাকা।
কৃষকরা বলছেন, গত ৩০ বছরের এমন বন্যার মুখোমুখি হননি তারা। আগে পাহাড়ি ঢলের পানি জমিতে আসলেও সঙ্গে সঙ্গে চলে গেছে। তবে এ বছর অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে পানি না যাওয়ায় ফসলের মাঠ ডুবে পচে গেছে। এই জমি চাষ করতে অনেকেই ধার দেনা করে ও ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। এবার ফসল নষ্ট হওয়ায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে দুশ্চিন্তায় তারা।
চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় এক লাখ ৩৫ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেছে প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমি ফসল। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৭৫ হাজার ৭০০ কৃষক।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমিগুলো সরজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং সেইসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছি। চলতি রোপা আমনের ধান আবাদ ছাড়াও সবজিতে অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এটি যেহেতু অসময়ে বন্যা, সেহেতু ধানের ক্ষেত্রে এখন আর কৃষকদের কোনো কিছু করার নেই। তারপরও যেসব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রয়েছেন তারা যেন তাদের ক্ষতিটা পুষিয়ে নিতে পারেন, সেজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা যেন বোরো আবাদের আগেই বাড়তি একটি ফসল আবাদ করতে পারে এজন্য আমরা তাদের সরিষা আবাদে কথা বলেছি।
তিনি আরো জানান, আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রণোদনা আসবে বলে আশা করছি।