সরেজমিন ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, বেদে নারীর একটি দল যাকে পাচ্ছে টাকা চাচ্ছে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে বিশ্রি ভাষায় গালমন্দ করছেন। এতে কেউ কেউ ক্ষিপ্ত হয়ে বেঁধের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছেন। তবুও চাঁদাবাজি করছেন বীরদর্পে।
স্থানীয়রা জানান, বেদে নারীদের একেকটি দলে ৫ থেকে ৭ জন সদস্য থাকে। তাদের সঙ্গে রাখেন একজন উঠতি বয়সের তরুনী কিংবা যুবতী। বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন অলিগলি ও হাটবাজার দাপিয়ে বেড়ান। কখনো সঙ্গে সাপ রেখে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। কেউ টাকা না দিতে চাইলে গালমন্দ করতে থাকেন দলের নেতৃত্ব দেয়া যেকোনো এক নারী। তখন সঙ্গে থাকা তরুনী কিংবা যুবতী পুরুষের হাত কিংবা শার্ট ধরে টানাটানি করতে থাকেন। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকে টাকা দেয়। স্কুল-কলেজপড়ুয়া মেয়েদের ওড়না ধরে টানাটানি করায় তারাও দশ টাকা দিতে বাধ্য হয়। উপজেলায় অর্ধশতাধিক বেদে চাঁদাবাজির মাধ্যমে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
.png)
সাইদুল ইসলাম নামের এক যুবকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সম্প্রতি ১৩ বছরের তরুণীসহ পাঁচ সদস্যের বেদে নারীর এক দল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমার পথ আগলে দাড়ায়। এসময় ১০ টাকা চাওয়া হয়। আমি টাকা নেই বলতেই দুই বেদে গালমন্দ শুরু করে। তারা আমার পকেটে হাত দিতে চাইলে আমি ১০০ টাকার একটি নোট বের করে ৯০ টাকা ফেরত চাই। কিন্তু তারা পুরো টাকা নিয়ে দ্রুত গতিতে চলে যায়। শত চেষ্টা করেও টাকা ফেরত নিতে পারিনি। উল্টো অনেক গালমন্দ শুনেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পৌর শহরের এক স্কুলছাত্রী বলেন, বেদে নারীর দল আমার কাছে টাকা চায়। টাকা নেই বলতেই পথ আগলে দাঁড়াতে চেষ্টা করে। এমতাবস্থায় দ্রুত তাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাই।
সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে বাসস্ট্যান্ডে নামেন আব্দুল হাই। তিনি বলেন, ত্রিশাল উপজেলা থেকে ভালুকায় বোনের বাসায় বেড়াতে এসেছি। গাড়ি থেকে নামতেই একদল বেদে নারী দশ টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না চাইলে তাদের সঙ্গে থাকা এক তরুণী আমার হাত ও শার্ট ধরে টানাটানি করে টাকা চাইতে থাকে। এমতাবস্থায় লোকলজ্জার ভয়ে দশ টাকা দিয়ে দ্রুত চলে গিয়েছি।
ভালুকা পৌর এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বেদের চাঁদাবাজির যন্ত্রণায় নাগরিকরা অতিষ্ঠ। তারা পৌর শহরসহ অলিগলিতে প্রবেশ করে। সুযোগ পেলে সরাসরি পকেটে হাত ডুকাতেও তারা ভয় পায় না। যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে উপজেলাজুড়ে বেদে নারীদের উৎপাত বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে সবাই ক্ষুব্ধ। থানা পুলিশ জানলেও কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করে না।
চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে হাজেরা নামের একজন বেদে বলেন, স্বামী কাজকর্ম করতে অক্ষম। আমাদের কেউ কাজে নেয় না। আমরা পেটে তিনবেলা খাবার জোটাতেই মানুষের কাছ থেকে দশ টাকা করে নিয়ে থাকি। এটি চাঁদাবাজির মধ্যে পড়ে না।
তিনি বলেন, অনেকে টাকা থাকলেও দেয় না। তখন বুঝিয়ে বলি টাকা দিতে। কারণ, তারা টাকা না দিলে আমরা চলতে পারবো না। আমাদের দলের কেই বকাবকি করে না, হাত-শার্ট কিংবা ওড়না ধরেও টানাটানি করে না। অন্য বেদের দল কারও সঙ্গে এমন করে কিনা আমার জানা নেই।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. শামছুল হুদা খান বলেন, যার ইচ্ছে টাকা দিয়ে সহায়তা করবে, যার ইচ্ছে করবে না। এতে জোরাজোরি কিংবা অপমান- অপদস্ত কখনোই করতে পারবে না। জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে কিনা তদারকি করা হবে। প্রমাণ মিললে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।