এদিকে সবজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্য ও নিম্নআয়ের লোকজনের কাছে ফাটা ডিম যেন ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় পাইকাররা যেসব ডিম ক্রয় করে পরিবহন দিয়ে আনার সময় ফেটে নষ্ট হচ্ছে, তারা ওই ডিমগুলো স্বল্প দামে ক্রয় করে খাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় বাজারে ফার্মের প্রতি হালি ডিম বিক্রি করছে ৬০ টাকায়। সেইসঙ্গে দোকানে ফাটা থাকা ডিমগুলো প্রতি হালি নিচে ৩০ টাকা ওপরে ৩৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
.png)
পৌর শহরের সড়ক বাজার এলাকার সবজি বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি শিম ২৫০-২৭০ টাকা, টমেটো ২৮০-৩০০ টাকা, বেগুন ১১০-১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৪৫০-৪৬০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, ফুলকপি ১২০-১৩০ টাকা, বাঁধাকপি ১২০-১৩০ টাকা, করলা ১১০-১২০ টাকা, পেঁপে ৫০-৫৫ টাকা, মুলা ৭০-৮০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৯০-১০০ টাকা, গাজর ১৪০-১৫০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০-৬৫ টাকা, কাঁকরোল ১০০-১১০ টাকা, মুখি ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ১০০-১১০ টাকা, আলু ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ১১০-১২০ টাকা, ধনিয়া পাতা ৫৫০-৬০০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৪৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়াও কাঁচকলা প্রতি হালি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শাকের মধ্যে ডাঁটা শাক ২০ টাকা, পালং ২০-২৫ টাকা, লাউ শাক ৪০-৫০, লাল শাক ২০ টাকা, বথুয়া শাক ২০-২৫ টাকা আঁটি বিক্রি হচ্ছে।
অবশ্য বিক্রেতারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যে কারণে দামটা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে তুলনামূলক অনেক বেশি। এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।
এদিকে বাজারে দিনদিন সবজির দাম বাড়তে থাকায় সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে অনেকটাই অস্বস্তি বিরাজ করছে।
খোঁজ নিয়ে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌর শহরসহ উপজেলায় যে পরিমাণ ডিম লাগছে, তা বেশিরভাগই বাইরে থেকে সরবরাহ করে তার জোগান দিতে হয়। ফার্ম থেকে ডিম সরবরাহের সময় প্রতিদিনই অনেক ডিম ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়। তবে হালকা ফেটে যাওয়া ডিমগুলো কম দামে বিক্রি করা হয়। এলাকার নিম্নআয়ের লোকজন ফাটা ডিম ক্রয় করছেন। সবজি ও মাছের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা স্বল্প দামে ফাটা ডিম কিনে দেহে আমিষের চাহিদা পূরণ করছেন।
রিকশাচালক মিলন মিয়া বলেন, পরিবারে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়েসহ ৫ জন সদস্য রয়েছে। রাধানগর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকছি। ভাড়ায় দৈনিক রিকশা চালিয়ে ৪০০ টাকার উপর আয় হয় না। নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজি আর মাছ কেনা দুষ্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই কম দামে ফাটা ডিম কিনে কোনো রকম খেয়ে বেঁচে আছি।
রিপন মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাজারে সবজির দাম বেশ চড়া। ইচ্ছে করলেও কোনো কিছু কিনে খাওয়া যায় না। ডিমের দাম বেড়ে যাওয়ায় কেনা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। একটি ডিম ১৫ টাকা দিয়ে কেনার অবস্থা নেই। তাই এখন ফাটা ডিম কিনে খাওয়া হয়।
পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকার মো. ইয়াছিন মিয়া বলেন, বাজারে প্রায় সব সবজির দাম ৮০ টাকার ওপরে। আমাদের মতো সাধারণ লোকজনের সবজি খাওয়ার দিন শেষ হয়ে গেছে। যে টাকা নিয়ে বাজার করতে এসেছি, এখন দেখছি দু-তিন রকম সবজি কিনলেই টাকা শেষ হয়ে যাবে। অন্যান্য জিনিস তো আর কেনা যাবে না। মোটকথা আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষ খুব কষ্টে আছে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সিরাজ মিয়া বলেন, আমাদের মতো গরিবদের জীবনধারণ খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো জিনিসের দাম কম নেই। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক আগে থেকেই মাছ-মাংস কেনা বন্ধ করে দিয়েছি। খেতাম একটু সবজি, তাও এখন আমাদের পক্ষে কেনা সম্ভব না। ৮০ টাকার নিচে কোনো প্রকার সবজি পাওয়া যায় না।
তিনি আরো বলেন, আমরা তো ভেবেছিলাম নতুন সরকার ঠিকভাবে বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছুই হচ্ছে না। বাজার এখনো সিন্ডিকেটের দখলেই রয়ে গেছে।
সবজি বিক্রেতা আজিজ মিয়া বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সবজি নষ্ট হয়ে বাজারে সরবরাহ তুলনামূলক অনেক কমে গেছে। তাছাড়া যেসব সবজি পাওয়া যাচ্ছে তাও আবার বেশি দামে ক্রয় করে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ অবস্থা বেশিদিন থাকবে না। সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে দাম কমে আসবে।