গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সদর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়নের নগরকুসম্বী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমিনুল ইসলাম ঐ এলাকার মো. মোয়াজ্জিম হোসেনের ছেলে।
.png)
অভিযুক্ত মো. সুমন সরদার (৩৫) জেলার রানীনগর উপজেলার পূর্ব বালুভরা গ্রামের শরিফুল আকন্দের ছেলে ও গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তার (৩০) সদর উপজেলার নামানূরপুর (চন্ডিপুর) গ্রামের হাফিজারের মেয়ে।
এ ঘটনায় আরো দুইজনকে বিবাদী করে মামলা করেন নিহতের বোন মুসলিমা বেগম। তারা হলেন- নগরকুসম্বী গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে ইয়াসিন (৫৫) ও মৃত মফিজের ছেলে মো. মতিন (৫২)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ বৃষ্টি আক্তারের সঙ্গে ৯ বছর আগে বিয়ে হয় আমিনুল ইসলামের। প্রায় ৬ মাস আগে মোবাইলে মো. সুমন সরদারের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন গৃহবধূ বৃষ্টি। সুযোগ বুঝে বাড়ির বাইরে গিয়ে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে দেখাও করেন তিনি। বিষয়টি আমিনুল জানতে পারলে প্রথমে স্ত্রীকে নিষেধ করেন। কিন্তু স্ত্রী তার কথা শোনেননি। আমিনুল পেশায় ভ্যানচালক হওয়ায় বাড়িতে বেশিক্ষণ থাকতেন না। এ সুযোগ কাজে লাগাতেন বৃষ্টি। পরকীয়া প্রেমিককে নিয়মিত বাড়িতে এনে আড্ডা দিতেন তিনি।
বিষয়টি প্রতিবেশীরা জানতে পেরে আমিনুলকে অবগত করে। স্ত্রীকে শাসন করেন আমিনুল এবং তাদের সন্তানদের কথা চিন্তা করে এগুলো থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেন। শাসন করার কথা পরকীয়া প্রেমিককে জানিয়ে দেন গৃহবধূ বৃষ্টি। এরপর বিভিন্ন সময় আমিনুলকে প্রাণনাশের হুমকি দিতেন স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক মো. সুমন।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামের সুরুজের দোকানে সিগারেট আনতে যান আমিনুল। এ সময় ওঁত পেতে থাকা মো. সুমন, ইয়াসিন ও মো. মতিন হাত-মুখ বেঁধে আমিনুলকে নির্জন স্থানে ধরে নিয়ে গিয়ে মাথায় ও বুকে আঘাত করেন। এরপর শ্বাসরোধে হত্যা করে তার বাড়ির সামনে ইয়াসিনের নবনির্মিত বাড়ির মেঝেতে ফেলে রাখেন।
এদিকে বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়ায় আমিনুলের বাবা ছেলেকে খুঁজতে বের হন। অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর ছেলেকে ইয়াসিনের নবনির্মিত বাড়ির মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যান। এ সময় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এসে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে নওগাঁ সদর মডেল থানায় বিষয়টি অবগত করলে কেউ আসেনি। অভিযুক্ত মো. মতিন ও ইয়াসিনের নেতৃত্বে লাশ দ্রুত দাফন করা হয় এবং মামলা না করার জন্য আমিনুলের বাবাকে নানান রকম হুমকি প্রদান করা হয়।
নিহতের বোন মুসলিমা বেগম ( ৪০) বলেন, আমার ভাইয়ের বউ বৃষ্টি আক্তার তার পরকীয়া প্রেমিক সুমন সরদারকে নিয়ে বাড়িতে নিয়মিত আড্ডা দিতেন। এগুলো প্রতিবেশীরা দেখে আমার ভাইকে বলে দেয় এবং আমার ভাই বৃষ্টিকে শাসন করলে তিনি তার পরকীয়া প্রেমিককে বলে দেন। এরপর সুমন সরদার আমার ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন মাঝেমাঝেই। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিগারেট আনতে গেলে আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। আমার মা ৯ মাস আগেই মারা গেছেন। এখন ভাইকেও হারালাম। আমার ছোট ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই।
নিহতের বাবা মুয়াজ্জিম বলেন, আমার ছেলে সেদিন বাড়ির পাশে এক দোকানে সিগারেট কিনতে যায়। তার আসতে দেরি হওয়ায় আমি টর্চলাইট নিয়ে খুঁজতে বের হই। কিন্তু এদিক-সেদিক খোঁজাখুঁজির পর না পেলে হঠাৎ প্রতিবেশী ইয়াসিনের নবনির্মিত বিল্ডিংয়ের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। এ সময় জোরে চিৎকার করে অজ্ঞান হয়ে যাই। একজন বাবা হিসেবে কথা বলার শক্তিটুকুও নেই আমার। কিছুদিন আগেই আমার স্ত্রীকে হারিয়েছি। এখন আমার আদরের সন্তানকে হারালাম। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।
প্রতিবেশী ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা পরকীয়ার বিষয়টি আমিনুলকে জানালে সে তার বউকে নিষেধ করে। কিন্তু বউ তার কথা শোনেনি। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা, তাই এর বিচার চাই আমরা।
এ বিষয়ে নওগাঁ মডেল থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আদালত থেকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তদন্ত করতে দিয়েছে এবং আদালত জানতে চেয়েছেন যে এটার কোনো ইউডি মামলা হয়েছে কিনা। যেহেতু ইউডি মামলা হয়নি; এজন্য এটির রিপোর্ট পাঠিয়ে দেব। পরবর্তীতে আদালত আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন।