জানা যায়, ৫০ শয্যাবিশিষ্ট এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। এরমধ্যে তিনজন চিকিৎসক অন্যান্য হাসপাতালে সংযুক্ত থেকে বেতন-ভাতাদি নিচ্ছেন। একজন চিকিৎসক আড়াই বছর যাবত কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। এছাড়াও তিনজন নার্সের পদও খালি রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে দেখা গেছে, টিকেট কাউন্টার থেকে প্রতিটি দফতরেই রোগীদের উপচেপড়া ভিড়। বহির্বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সামনে দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে কাঙ্ক্ষিত সেবা নিচ্ছেন অনেকে। ওষুধ কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন ধরে প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে ফেরত যাচ্ছেন অনেকে।
.png)
দায়িত্বরতরা বলছেন, অনেক দিন ধরেই ওষুধের সংকট রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ অনেক ওষুধের সরবরাহ নেই। বিশেষ করে ডায়াবেটিস, প্রেশার, অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যাজমার ওষুধের সংকট রয়েছে। যা বরাদ্দ আছে তা থেকে অল্প অল্প করে রোগীদের সন্তুষ্ট করা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বহির্বিভাগে গড়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ রোগী সেবা নিতে আসেন। গত এক মাসে ২৪ হাজার রোগী বহির্বিভাগে টিকেট কেটে সেবা নিয়েছেন। যা ঢাকা বিভাগে অবস্থিত হাসপাতালগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ সেবা নিতে আসা রোগীর তালিকায় অষ্টম। অথচ হাসপাতালটি মাত্র ৫০ শয্যাবিশিষ্ট।
হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও মাত্র দুটি ভবনে এর কার্যক্রম চলছে। একটি জরুরি বিভাগ অন্যটি ভর্তিকৃত রোগীদের জন্য। পুরাতন মূল ভবনটিতে সংস্কার ও মেরামতের অভাবে বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। কেবিনসহ ওয়ার্ডগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। টয়লেটগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী। ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, গত তিন বছর যাবত কোনো মেরামত হয়নি বিধায় এ অবস্থা। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এখানকার মানুষের চাহিদা অনুযায়ী হাসপাতালটিকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রেহানা আক্তার নামে একজন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রেশার ও ডায়াবেটিসে ভুগছেন। নিয়মিত এসব রোগের ওষুধ খেয়ে যেতে হয়। আর্থিক সংকটে হাসপাতাল থেকে ফ্রি ওষুধ নেন। কিন্তু প্রায় সময়ই এসে ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেন।
একই কথা বলেন আক্কাছ আলী নামের অপর এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, প্রায় সময় এসেই শুনি ডায়াবেটিসের ওষুধের সরবরাহ নেই। ফলে বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে এসব ওষুধ কিনে খেতে হচ্ছে। টাকার অভাবে অনেক সময় কিনতে পারি না।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.নূর-এ-আলম খান বলেন, জনবল সংকটের মধ্যে যারা রয়েছেন তাদেরকে নিয়েই রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবাদানে কাজ করে যাচ্ছি। জনবলের অভাব পূরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুতই সংকটের সমাধান হবে। এছাড়াও ডাক্তারদের অন্যত্র সংযুক্তি বাতিলের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ বরাবর সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, কিশোরগঞ্জ জেলার সব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ডাক্তার সংকট রয়েছে। কয়েকজন দুই মাস মেয়াদি ট্রেনিং করছেন। সেখান থেকে ফিরলেই আশা করছি কিছুটা সংকট কেটে যাবে। ওষুধের টেন্ডার দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই সরবরাহ বাড়বে। ভবন মেরামতের ব্যাপারটিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।