মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালতের বিচারক খালেদা ইয়াসমিন ঊর্মি এ রায় দেন। রেশমা বেগম ছাড়া অন্য দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. ফারুক মিয়া, মো. বেলায়েত হোসেন ও মো. নাসির উদ্দিন মিঠু।
আসামি রেশমা বেগম মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচ ঘরিয়াকান্দি গ্রামের হোসেন সরকারের মেয়ে ও মৃত মোশারফ হোসেনের স্ত্রী। ফারুক মিয়া নারায়ণগঞ্জের শিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি চৌধুরীপাড়ার মৃত মনুমিয়ার ছেলে, নাছির উদ্দিন মিঠু কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বন্ধনপুর এলাকার বদুরুজ্জামানের ছেলে ও আসামি বেলায়েত হোসেন ঢাকার উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকার মৃত আমির হোসেনের ছেলে।
.png)
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ভিকটিম মোশারফ হোসেন দির্ঘদিন ধরে গ্রিসে ব্যবসা করতেন। মাঝে মাঝে দেশে আসতেন। ২০১০ সালের ৯ আগস্ট মোশারফ বাংলাদেশে আসেন। ১০ আগস্ট তিনি মুন্সীগঞ্জের সদরের পাঁচঘরিয়াকান্দি তার শ্বশুর বাড়িতে আসেন। কাজ শেষ করে বিকেলে ঢাকার উদ্দেশে মুন্সীগঞ্জের সদরের লিচুতলা বাসট্যান্ড সিমান্ত পরিবহনের কাউন্টারের সামনে আসেন মোশারফ। এ সময় অজ্ঞাতনামা চারজন ব্যক্তি দুটি মোটরসাইকেলযোগে এসে মোশারফ হোসেনকে লক্ষ করে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।
মামলায় আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মোশারফের দুই সন্তান। তিনি গ্রিসে থাকা অবস্থায় রেশমা বেগম আসামি বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন। রেশমা ও বেলায়েত ভাড়াটিয়া খুনিদের মাধ্যমে মোশারফকে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় উত্তর যাত্রাবাড়ী এলাকার মৃত আমির হোসেনের স্ত্রী মোশারফের মা হাজেরা বেগম বাদী হয়ে ২০১০ সালের ১১ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ থানায় ছেলে হত্যার দায়ে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে মঙ্গলবার এ রায় দেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম পল্টু বলেন, ২০১০ সালের ১০ আগস্ট ভিকটিম মোশারফ হোসেনকে আসামি চারজন মিলে পরিকল্পিতভাবে গুলি করে হত্যা করেছে। আদালতের রায়ে আমরা রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট।