ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

লক্ষ্মীপুরে বন্যায় প্রাণিসম্পদের ১১ কোটি টাকার ক্ষতি 

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:৪৬, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৪
লক্ষ্মীপুরে বন্যায় প্রাণিসম্পদের ১১ কোটি টাকার ক্ষতি 
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ভয়াবহ বন্যায় বেসরকারি হিসাবে লক্ষ্মীপুরে প্রায় ১১ কোটি টাকার প্রাণিসম্পদের ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সরকারি হিসাব মতে ৮ কোটি ৬৫ লাখ ১২ হাজার ৫০০ টাকার ক্ষয়ক্ষতি ধরা হয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলায় বন্যার পানির কারণে বিভিন্নস্থানে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির খামার ডুবে গেছে। এতে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার ১০টি মুরগি মারা গেছে। 

এছাড়া ৩৫টি গরু, ১৭৫টি ছাগল, খামারের ৯৭৫টি হাঁস, ১৭টি ভেড়া ও একটি মহিষ মারা গেছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাণিসম্পদক কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র। বিভিন্ন খামারের মুরগি মারা গেছে প্রায় ১ লাখ ৫৯ হাজার। এখনো ৫ লাখ ১১ হাজার ১১০টি গবাদি পশু  ও হাঁস-মুরগি বন্যা কবলিত রয়েছে।

Advertisement

গবাদিপশুসহ ৩০৩টি খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতি ৭৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা, হাঁস-মুরগিসহ ৪২৩টি খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। এছাড়া ১ কোটি ৫৭ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকার পশুপাখির খাদ্য বিনষ্ট হয়েছে বন্যায়।

যেসব পশু ও মুরগি অক্ষত রয়েছে তাদের মধ্যে ৯০০ গবাদিপশু ও ১২ হাজার ৯০০ হাঁস-মুরগিকে টিকা দেওয়া হয়েছে। ৮৪১টি গবাদিপশু ও ৩০ হাজার ৩৬৫টি হাঁস-মুরগিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

লক্ষ্মীপুর সদরের পৌর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা খামারি সামছুজ্জামান মামুনের একটি খামারে ৫ হাজার মুরগি ছিল। বন্যার পানিতে প্রায় ৮শ মুরগি মারা যায়। এতে তার ১০ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান। তবে যেসব মুরগি বেঁচে ছিল সবকটি নিজের বাসভবনে নিয়ে রেখেছেন। একই সঙ্গে তার পুকুরের মাছও বন্যায় ভেসে গেছে।

জেলার রায়পুরের উত্তর চরমোহনা গ্রামের খামারি মো. ইউনুস জানান, দায়দেনা করে গরু লালন-পালন করেছেন তিনি। বন্যার পানিতে তার ৩টি বড় গরু মারা গেছে। অনেকটাই হতাশাগ্রস্ত হয়ে আছেন তিনি। সামনে চলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান ইউনুস। 

একই অবস্থা রামগঞ্জের নোয়াগাঁওর শৈরশৈই গ্রামের করিম হোসেনের। তিনি জানান, বন্যার পানিতে তার ২ হাজার ব্রয়লার মোরগ মারা গেছে। লোকসান গুনে তিনি এখন হতাশায় ভুগছেন।

বন্যার পানিতে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে গত ১৫ দিনে জেলার বিভিন্নস্থানে গরু-মোরগসহ এসব গবাদি পশু-পাখি মারা যায়।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র বলেন, লক্ষ্মীপুরে বন্যার ক্ষতির এক প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ তুলে ধরা হয়েছে। সব সমস্যার সমাধানে মাঠ পর্যায়ের লোকবল দিয়ে কাজ করা হয়েছে। ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হবে। আশা করছি সরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!