ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও উপজেলার সীমান্তবর্তী হাওড়া বাঁধ ভেঙে গত চারদিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার। দূর থেকে দেখলে মনে হয় গ্রামগুলো পানিতে ভাসছে। বন্যার কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছে এলাকার শত শত মানুষ।
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বানবাসি মানুষদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করছেন।
.png)
একাধিক ভুক্তভোগী জানান, উপজেলার সীমান্তবর্তী হাওড়া বাঁধ ভেঙে আখাউড়া-আগরতলা সড়কের দু’পাশের কালিকাপুর, বীরচন্দ্রপুর, আবদুল্লাহপুর, বঙ্গেরচর, রহিমপুর, সাহেবনগর ও মোগড়া এলাকার বাউতলা, উমেদপুর, নীলাখাত, নয়াদিল, টানোয়াপাড়া, নোয়াপাড়া, নুনাসার, বচিয়ারা, ধাতুর পহেলা, কুসুম বাড়ি, আদমপুরসহ অন্তত ৩৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়ে অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবার।
গ্রামের অধিকাংশ বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি। তাদের রান্না করার চুলাটিও রয়েছে পানির নিচে। থাকার জায়গা নেই। অনেকে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছেন। কেউ বা চলে গেছেন আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। যারা গবাদিপশু পালন করছেন, তাদের যেন চিন্তার শেষ নেই। জীবন বাঁচাতে অনেকে কেবল শুকনো চিড়া-মুড়ি খেয়েই দিন কাটাচ্ছেন। রাত থেকে বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ এখনো কমেনি।
গাজীর বাজার এলাকার মানিক মিয়া বলেন, গত রাতে সামান্য পানি কমেছে। বাড়ি-ঘরে পানি আছে। চারদিন ধরে খুবই কষ্টে আছি।
উমেদপুর গ্রামের মর্জিনা বেগম বলেন, স্বামী অসুস্থ। একমাত্র ছেলে অটোরিকশা চালিয়ে সংসার চালায়। রাস্তায় পানি উঠায় গত তিনদিন ধরে রিকশা চালানো বন্ধ আছে। ঘরের মধ্যে কোমর সমান পানি উঠেছে। এখন সবাই মিলে একটি স্কুলে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। শুকনো খামার খেয়ে দিন পার করছি। আগে মানুষ বিপদে পড়লে খবর নিতে আসত। এখন দেখা যায় না।
খলাপাড়া গ্রামের মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বাড়িতে টিনের একটি ঘর ছিল। রাস্তার মধ্যে পানি উঠায় চারদিকে মাটি দেওয়া হয়। বাঁধের কাজ করতে রাতে ঘর থেকে বের হই। মধ্যরাতে হঠাৎ খবর শুনি পানির গতি বেড়ে ঘরটি ভেঙে তলিয়ে নিয়ে যায়। এখন এক কাপড় ছাড়া আমাদের আর কিছু নেই। এখন কী করব, কোথায় যাব কিছুই ভেবে পাচ্ছি না। সকাল থেকে বিকেল পযর্ন্ত কেউ কোনো খবর নেয়নি।
অটোরিকশাচালক মো. রাজিব মিয়া বলেন, বন্যার কারণে বাড়িতে পানি উঠায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। গত চারদিন ধরে রিকশা চালাতে পারছি না। আমাদের এই দুর্দিনে এখন পযর্ন্ত কেউ কোনো খবর নেয়নি।
মো. মহব্বত খাঁ বলেন, আমার একটি মাত্র থাকার ঘর। এই ঘরে কোমর সমান পানি। গরু খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। ঘরে পানি থাকায় রান্নাবান্নার কাজ বন্ধ আছে। চিড়া-মুড়ি খেয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি। গত চারদিন ধরে কাম-কাজ বন্ধ থাকায় খুবই কষ্টে দিন যাচ্ছে।
মো. শামসু মিয়া বলেন, ঘরে-বাইরে সবখানেই শুধু পানি আর পানি। ছেলেমেয়েকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়েছি। কাজ-কর্ম না থাকায় সংসার চালাতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
আখাউড়ার ইউএনও গাজালা পারভীন রুহি বলেন, উপজেলার ৩৫টি গ্রাম পানিবন্দি রয়েছে। পানিবন্দি মানুষকে আশ্রয়ের জন্য কয়েকটি প্রাইমারি ও হাইস্কুল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা দুর্গতদের পাশে রয়েছি।