এর আগে এলাকার ব্যবসায়ীরা ফরিদপুর, আলফাডাঙ্গা, কাশিয়ানি, মাগুরাসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আখ ক্রয় করে এখানে এনে বিক্রি করতেন। এখন নিজেদের মাঠে আখ চাষ হওয়ায় বিক্রি বেড়েছে। আর এই আখ চাষ করে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। ফলে এ উপজেলার কৃষকদের আখ চাষে আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। প্রতিদিনই উপজেলার ছোট-বড় বাজারগুলোতে অসংখ্য আখের দোকান দেখা যায়। রাস্তার ধারে বসা এসব দোকানে বিক্রি হচ্ছে এই আখ। প্রতি পিস আখ ৫০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই উপজেলা ধান, পাট, কলাই, সরিষা চাষের উপজেলা হিসেবে পরিচিত। এখানে প্রচুর পরিমাণে ধান, পাট, কলাই, সরিষার চাষ হয়ে থাকে। ২০০০ সালের পর থেকে আখের চাষ শুরু হয়। লোহাগড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় এ বছর ১০০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। আখের ফলনও ভালো হয়েছে।
.png)
সরজমিন লোহাগড়া উপজেলার লোহাগড়া, লক্ষীপাশা, দিঘলিয়া, রামকান্তপুর, কাউড়িখোলা, কামঠানা, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ আখ দণ্ডায়মান। বাঁশ দিয়ে টাল করে সোজা রাখা হয়েছে। চাষিরা জমির আখ কাটছেন আর এই কাটা আখ বাজারে নিয়ে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকে আসা আখের বেপারীর কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন।
উপজেলার কাউড়িখোলা গ্রামের আখচাষি প্রসাদ গাইন জানান, তিনি চার বছর ধরে আখ চাষ করছেন। গত বছর ৭৫ শতক জমিতে আখের চাষ করে এক লাখ টাকা লাভ করেছেন তিনি। এ বছরও তিনি সমপরিমাণ জমিতে আখ চাষ করেছেন। এবারও লক্ষাধিক টাকার আখ বিক্রি করার আশা করছেন তিনি। আখ চাষ করে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
উপজেলার কামঠানা এলাকার আখচাষি কামাল শেখ বলেন, এবার তিনি ৯০ শতক জমিতে আখের চাষ করেছেন। এই ৯০ শতক জমিতে আখ রোপণ করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা। যে ৯০ শতক জমিতে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে আখ চাষ করেন, তার বর্তমান বাজারমূল্য ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। অল্প খরচে অধিক লাভজনক বলে তিনি এই পেশায় ঝুঁকে পড়ছেন বলে জানান।
লোহাগড়া উপজেলার এরশাদ মোল্যা নামে এক চাষি বলেন, এক বিঘা জমিতে আখ চাষ করছি। এখনো বিক্রি শুরু করিনি। প্রতি বিঘা জমির আখ ৫০-৬০ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।
লোহাগড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তারজানান, আট থেকে দশ বছরের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠে আখের চাষ ছড়িয়ে পড়েছে। এটা খুবই লাভজনক হওয়ায় আখ চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ হওয়ায় প্রতি বছরই বাড়ছে আখের চাষ। তারাও কৃষকদের আখ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন, ধান, পাট, কলাই ও সরিষার পরই আখ চাষে এগিয়ে যাচ্ছেন উপজেলার কৃষকেরা। আখের রোগ-বালাই ও অধিক ফলনের জন্য সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।