শরণখোলা উপজেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন, বঙ্গোপসাগরে এখন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছে। উত্তাল সাগরে টিকতে না পেরে শতাধিক ফিশিংবোট চারদিন ধরে রায়েন্দা, মোরেলগঞ্জের কুমারখালী, মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা ও পাথরঘাটাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন তারা।
দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে প্রথম দফায় ২৩ জুলাই মধ্যরাতে তাদের ফিশিংবোট বহর সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুর্যোগের কবলে পড়ে। ফিরে আসতে বাধ্য হয় শতাধিক জেলে। আবহাওয়া ভালো হওয়ায় আবার সাগরে গিয়ে জাল ফেলতেই সাগরের অবস্থা আকস্মিক খারাপ হয়ে যায়। প্রবল ঢেউ ও ঝোড়ো বাতাসে টিকতে না পেরে বুধবার (৮ আগস্ট) থেকে উপকূলে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে ফিশিংবোট বহর। ফলে ক্রমাগত লোকসানে পড়ে এখন দিশেহারা জেলে ও ফিশিংবোট মালিকরা।
.png)
শরণখোলা রাজৈর মৎস্যঘাটের আড়তদার কবীর হোসেন বলেন, সাগরে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় ফিশিংবোট বহর সাগরে না গিয়ে তিনদিন ধরে রায়েন্দা মৎস্যঘাটে নোঙর করে আছে।
পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরের আড়তদার আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলে মৎস্যজীবীরা এখন ভালো নেই। একদিকে সরকারের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা, অপরদিকে সাগরে গিয়ে বারবার দুর্যোগের কবলে পড়ে মাছ ধরা বন্ধ রেখে জেলেদের নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে হচ্ছে।

মোরেলগঞ্জের কুমারখালী এলাকার জেলে সাইফুল ইসলাম শেখ ও আব্দুল জলিল খান বলেন, নিষেধাজ্ঞার পরে সাগরে যাওয়ার প্রস্ততি নিয়ে রওনা হলে দুর্যোগের কারণে বোট নিয়ে ফিরে এসেছি। মহাজনদের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছি। মাছের ওপর নির্ভর করেই চলে আমাদের জীবন ও জীবিকা।
বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ক্রমাগতভাবে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ছেন। মৎস্যজীবীরা ধার-দেনা করে লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরে বোট পাঠিয়ে মাছ ধরতে না পেরে লোকসান গুনছেন।
বাংলাদেশ ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও শরণখোলার মৎস্য ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম খোকন জানান, দীর্ঘ ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে অনেক জেলে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে দুইবার খালি বোট নিয়ে ফিরে এসেছেন। প্রতি বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়েই আমাদের দেশীয় জেলেরা বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়েন। ভারতের সঙ্গে মিল রেখে আমাদের দেশের সাগরে নিষেধাজ্ঞা দিলে জেলেরা ভালোভাবে মাছ ধরতে পারতেন। এ বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।