জানা যায়, ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। এটি এই এলাকার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা পৌনে দুইশ এবং শিক্ষক রয়েছেন ছয়জন। একাডেমিক শিক্ষার মান ভালো হলেও খেলার মাঠ এবং অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রম চালানোর মতো আনুষাঙ্গিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে পিছিয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানান, বর্ষা মৌসুমে অধিকাংশ সময় মাঠে পানি জমে থাকায় তাদের খেলাধুলার ব্যাঘাত হয়। দ্রুত মাটি ভরাটের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি তাদের।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের সামনের ছোট মাঠটি পুরোটাই পানিতে ডুবে আছে। দ্রুত বর্ধনশীল ক্ষুদিপানায় ঢেকে আছে পুরো মাঠ। বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বারান্দায় খেলাধুলা করছে, কয়েকজন খেলছে ঝুঁকিপূর্ণভাবে রাস্তায়। এমনকি একটি বল নিয়ে ক্লাসরুমে ফুটবল খেলতেও দেখা গেছে কয়েকজনকে।
প্রধান শিক্ষক আক্তারুজ্জামান বলেন, সরকারি চাকরি করি তাই অফিসিয়াল বক্তব্য দিতে পারব না। তবে বাচ্চাদের কষ্ট আমার আর ভালো লাগে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই স্কুল মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারে না। ক্লাসরুম আর বারান্দায় আবদ্ধ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এতে কোমলমতি শিশুদের মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তিনি আরো বলেন, ড্রেন খুঁড়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও পার্শ্ববর্তী জমির মালিকদের বাধার মুখে করতে পারিনি। বিষয়টি নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ৬ জুন শেরপুর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত আবেদন করেছি।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের মাঠটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টির সময় আশেপাশের পানি নেমে এসে মাঠে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। স্থায়ীভাবে সমস্যা নিরসনে মাঠে মাটি ভরাটের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
অভিভাবক আব্দুস সামাদ বলেন, সরকার জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। কিন্তু আমাদের সন্তানরা প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদ পড়ে যায়। পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায় প্রতিযোগিতা আনতে গেলে অনুশীলন অপরিহার্য। কিন্তু মাঠ ছাড়া কি খেলাধুলা সম্ভব? তার দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করুক কর্তৃপক্ষ।
শেরপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্রাম হোসেন বলেন, শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।