ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বৃষ্টিতে পাট চাষিদের মাঝে স্বস্তি

সাখাওয়াত হোসেন হৃদয়, পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ)
প্রকাশিত: ১৭:০৩, ৩১ জুলাই ২০২৪
বৃষ্টিতে পাট চাষিদের মাঝে স্বস্তি
বৃষ্টিতে পানি হওয়ায় পুকুরে পাট জাগ দেওয়া হয়েছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কয়েক দিনের খরায় পানির অভাবে পাটের জাগ দিতে পারছিলেন না কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাট চাষিরা। পাট নিয়ে অনেকটাই বিপাকে পড়ার শঙ্কায় ছিলেন তারা। অবশেষে গত দুইদিনের ভারী বর্ষণের ফলে পর্যাপ্ত পানি জমায় পাট জাগে আর সমস্যা থাকছে না। এতে স্বস্তি ফিরে এসেছে পাট চাষিদের মনে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, পাকুন্দিয়া পৌরসভাসহ উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে কম-বেশি পাট চাষ করা হয়ে থাকে। কৃষি বিভাগ থেকে সবসময় পাট চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়ে থাকে। চলতি অর্থবছরে এ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০০ হেক্টর জমি। পাট চাষের শুরুতে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় উৎপাদন কিছুটা কম হয়েছে। এবার এ উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। তবে পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারে পাটের দামও ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন। এতে আগামিতে এ উপজেলায় পাটের আবাদ আরো বাড়বে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার বেশকিছু এলাকায় পাটের আবাদ করা হয়েছে। চাষিরা এখন ব্যস্ত পাট কাটতে। কাটা পাট জাগ দিতে। বেশিভাগ জমির পাটই কাটা শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু জাগ দেওয়ার পালা। পাটের বাজার দরও বেশ ভালো। মণ প্রতি আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

Advertisement

সরেজমিনে পৌর এলাকার মধ্যপাকুন্দিয়াসহ উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, ছোটছোট গর্ত, ডোবা, নালা ও পুকুরে বৃষ্টির পানি জমেছে। পাট চাষিরা পাট কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউবা আঁটি বেঁধে জড়ো করে রেখেছেন, জাগ দেবেন বলে। অনেকে আবার ব্যস্ত কাটা পাট পানিতে নিয়ে ডুবাতে।

মধ্যপাকুন্দিয়া গ্রামের হাসেন আলী বলেন, আমি দেড় কানি জমিতে পাটের চাষ করেছি। পাট কাটা শেষ। কয়েক দিনের তীব্র খরায় পানির অভাবে পাট জাগ দেওয়া নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। গত দুইদিন প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে বাড়ির পাশের বড় গর্তে পানি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সেখানে পাট জাগ দিচ্ছি।

উপজেলার আদিত্যপাশা গ্রামের দ্বীন ইসলাম বলেন, এবার এক বিঘা জমিতে পাটের চাষ করেছি। এতে আমার সব মিলে খরচ হয়ে ১৬ হাজার টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। বাজার দরও ভালো। পাটের আঁশ ও পাটশোলা বিক্রি করে লাভবান হবো বলে আশা করছি।

একই গ্রামের রোকন উদ্দিন ও রুসমত আলীও তাদের দুই বিঘা করে জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। পাটের ফলন ভালো হলেও জাগ দেওয়া নিয়ে তারা চিন্তিত ছিলেন। বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে তাদের আর শঙ্কা থাকছে না।

আঙিয়াদী ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হামিমুল হক সোহাগ জানান, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শের মাধ্যমে পাট চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পাট চাষ লাভজনক হওয়ায় দিনদিন কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর-ই আলম বলেন, ‘এ বছর পাটের ভালো ফলন এসেছে। বাজার দর ভালো থাকায় কৃষকরা লাভবান হবেন বলে আশা করছি’।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!