ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

শখ থেকে লটকন চাষ, আয় লাখ টাকা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১২:৫৭, ২৫ জুলাই ২০২৪
শখ থেকে লটকন চাষ, আয় লাখ টাকা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাহাড়ি এলাকায় গাছে গাছে এখন লটকনের সমারোহ। উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেনের বাগানে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় পাকা লটকন। বাগান নিয়ে খুশি ফরিদ। কয়েক বছর ধরে অর্থ আয় করছেন তিনি। তার বাগান দেখে লটকন চাষে আগ্রহী হয়ে পড়ছেন গ্রামের অনেকেই।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, পাহাড়ি মাটি লটকন চাষের জন্য খুব উপযোগী। অনেক কৃষক লটকন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। এতে শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে ফলটির অনেক পুষ্টি ও ঔষধি গুণ রয়েছে। ভিটামিন-সি’তে ভরপুর উপকারী এ ফলটি প্রতি দিনের খাবার তালিকায় রাখা যায়।

সরেজমিনে জাঙ্গালিয়া গ্রামের কৃষক ফরিদ হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তার ফলদ বাগানে অন্যান্য ফলের পাশে অল্প কিছু লটকনের গাছ লাগিয়ে ছিলেন। মূলত শখ করেই ১০টি লটকন গাছ দিয়ে ছোট পরিসরে বাগান করেছিলেন তিনি। তবে বাজারে লটকনের চাহিদা এবং দাম ভালো থাকায় অর্থনৈতিকভাবে সফলতা পাচ্ছেন।

Advertisement

তিনি আরো জানান, এ বছর ১ লাখ টাকার উপরে লটকন বিক্রি করতে পারবেন। এতে তার কোনো খরচ নেই। পাইকার বাগানে এসে লটকন কিনে নিয়ে যান। বিক্রির কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না। গুণগত মানভেদে লটকন মণ প্রতি ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দরে পাইকারি বিক্রি হয়ে থাকে। এ উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় উঁচু লালচে অম্লীয় মাটি ও ছায়ামুক্ত আবহাওয়ায় লটকন ভালো হয়ে থাকে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশস্থানীয় খাদেমুল ইসলাম বলেন, ফরিদ ভাই বাগান করেছে প্রথমে নিজেই খাওয়ার জন্য। কিন্তু এখন এই গাছগুলোতে এতো পরিমাণ ফল হয়, দেখে তো আমরা অবাক। তিনি এখন হাজার হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেন। চোখের সামনে তার পরিবর্তন দেখলাম। 

সাগরদীঘির শফিকুল ইসলাম জয় বলেন, লটকন চাষের কথা শুনে তার বাগান দেখতে এসেছিলাম। এসে দেখলাম প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লটকন ধরে আছে। দেখে এতো সুন্দর লাগলো। আমার এলাকাও পাহাড়ি। তাই আমার ইচ্ছে জাগলো লটকন গাছের বাগান করার। যেহেতু খরচ কম কিন্তু লাভ বেশি। তাই আমিও এটার বাগান করবো। 

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, লটকন উৎপাদনের জন্য ঘাটাইলের পাহাড়ি মাটি খুবই উপযোগী। লটকন চাষে পরিশ্রম ও খরচ দুটোই কম। স্বাস্থ্যসম্মত ফলটি উৎপাদনের জন্য উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!