চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের দেওয়া তথ্যমতে, চুয়াডাঙ্গায় গত বছর রোপা আউশ ধানের চাষ হয়েছিল ৪৩ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে চুয়াডাঙ্গায় রোপা আউশ ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৪৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। সেখানে ৪৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ১৬ হাজার ১২০ হেক্টর, আলমডাঙ্গা উপজেলায় ৯ হাজার ৫২৭ হেক্টর, দামুড়হুদা উপজেলায় ১১ হাজার ৫২০ হেক্টর এবং জীবননগর উপজেলায় ৭ হাজার ৫১২ হেক্টর।
চুয়াডাঙ্গায় চাষযোগ্য জমির পরিমাণ ৯৪ হাজার ২২০ হেক্টর। চলতি মৌসুমে চাষযোগ্য জমির শতকরা ৪৭ শতাংশ জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ হয়েছে। যা লক্ষ্য মাত্রার ৯৫ শতাংশ জমিতে ধান চাষ অর্জিত হয়েছে। রোপা আউশ ধান চাষে এ বছরও রেকর্ড করেছে চুয়াডাঙ্গা।
.png)
চুয়াডাঙ্গা কৃষি বিভাগের সূত্রমতে, সারাদেশের মধ্যে রোপা আউশ ধান চাষে চুয়াডাঙ্গা দ্বিতীয় অবস্থানে এবং উৎপাদনে যশোর অঞ্চলের মধ্যে প্রথম অবস্থানে আছে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার ৪টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে হাইব্রিড ও উফশী জাতের ২৭টি ভ্যারাইটির আউশ ধানের চাষ হয়েছে। হাইব্রিড জাতের মধ্যে এসিআই-১, এসিআই-২, ধানীগোল্ড, রাজ কুমারী, চমক, নবীন, ইস্পাহানী, আগামনী, কৃষাণ, মধুমতি, রডমিনিকেট ও সিনজেনটা-১২০৫। উফশী জাতের মধ্যে ব্রি-ধান-৪৮, ব্রি-ধান-৫৫, ব্রি-ধান-৫৮, ব্রি ধান-৯৮,খাটো বাবু, বিনা-১৭, বিনা-২১ ধানের চাষ করেছেন কৃষকরা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি চাষ হয়েছে উফশী জাতের মধ্যে খাটো বাবু ও ব্রি-ধান-৪৮। আর হাইব্রিড ধানের মধ্যে এসিআই-২, ইস্পাহানি ও সিনজেন্টা-১২০৫।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে আরো জানা গেছে, ফলন বৃদ্ধির জন্য কৃষি বিভাগ থেকে উফশী জাতের আউশ ধান চাষে আগ্রহী কৃষকদেরকে বিঘা প্রতি ৫ কেজি করে ধান বীজ, ১০ কেজি করে ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার প্রণোদনা সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হাটিকাটা গ্রামের কৃষক মিন্টু জোয়ার্দ্দার জানান, চলতি মৌসুমে ৫ বিঘা জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ করেছি। এরমধ্যে ৩ বিঘা জমিতে ব্রি-ধান-৪৮ ও ২ বিঘা জমিতে ভারতীয় ভ্যারাইটি রডমিনিকেট। ব্রি-ধান-৪৮ হারভেস্ট করা যায় ৯০ থেকে ১১০ দিনে আর রড মিনিকেট ধানে ১০ দিন সময় বেশি লাগে। এই ধানের ফলন ভালো। চাহিদা ও বাজার দর বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় রডমিনিকেট ধানের দিকে কৃষকরা ঝুঁকছেন।
তিনি আরো জানান, বোরো মৌসুমে এই জাতের ধান বিঘা প্রতি ৩০ থেকে ৩২ মন ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমেও বিঘা প্রতি ২০-২২ মণ করে ফলন হবে। ব্রি-ধান-৪৮ বর্তমান বাজারে প্রতি মণ ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর রডমিনিকেট প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিরিনা আক্তার বলেন, কৃষকরা ব্যক্তি পর্যায়ে বোরো মৌসুমে রডমিনিকেট ধানের চাষ শুরু করেন। তবে কেউ কেউ আউশ মৌসুমেও চাষ করছেন। ফলন ভালো হলে এ জাতের ধান চাষ আগামীতে বোরো ও আউশ মৌসুমেও বৃদ্ধি পাবে।
চুয়াডাঙ্গা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক বিভাস চন্দ্র সাহা জানান, জেলায় চাষাবাদের ক্ষেত্রে আবহাওয়া অত্যন্ত উপযোগী থাকে। চাষিদের কোনো সমস্যা পোহাতে হয় না। এছাড়া সেচ ব্যবস্থা নিয়ে চাষিদের অসুবিধায় পড়তে হয় না। তাছাড়া মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে চাষাবাদ সংক্রান্ত ব্যাপারে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখেন। সে কারণে সমস্যা হলেও তা দ্রুত সমাধান করা যায়।
তিনি জানান, চলতি মৌসুমে রোপা আউশ ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৬ হাজার ৭০০ হেক্টর জমিতে। চাষ হয়েছে ৪৪ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে। শতকরা ৯৫ ভাগ জমিতে রোপা আউশ ধানের চাষ হয়েছে। গত বছর রোপা আউশ ধানের চাষ হয়েছিল ৪১ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে। ধান চাষে বাংলাদেশের মধ্যে চুয়াডাঙ্গা দ্বিতীয় অবস্থানে ও যশোর অঞ্চলের মধ্যে উৎপাদনে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। আউশ মূলত বৃষ্টি নির্ভর ফসল। প্রথম দিকে জেলায় বৃষ্টিপাত কম ছিল। তবে পরবর্তীতে বৃষ্টি হওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। পোকা-মাকড় প্রতিরোধসহ ধানের উৎপাদন যেন বৃদ্ধি পায় সেদিকে কৃষি বিভাগের নজর আছে।