ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

অন্যের ঝামেলা কিনে মাসে আয় লাখ টাকা

কামরুজ্জামান মিন্টু, ময়মনসিংহ
প্রকাশিত: ১৯:৪৯, ২৭ জুলাই ২০২৪
অন্যের ঝামেলা কিনে মাসে আয় লাখ টাকা
ইনসেটে সায়েম আহমেদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

সড়কের দু’পাশে সারি সারি দোকান। এরমধ্যে ‘মেসার্স ঝামেলা কিনি’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ডে নজর সবার। এই দোকানে কি কি আছে কেউ তা দেখতে, আবার কেউ কিনতে এসেছেন।

ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকায় সড়কের পাশে দোকানটির অবস্থান। এখানে কম দামে বিক্রি করা হয় পুরাতন চেয়ার, টেবিল, টেবিল ফ্যান, চার্জার, তোশক, ফার্নিচার, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, টিভি, ফ্রিজসহ ঘরের সব ধরনের আসবাবপত্র। দোকানটি এমনই পরিচিতি পেয়েছে যে, প্রতিদিন স্থানীয় ক্রেতাসহ দূর থেকেও লোকজন আসেন। এরমধ্যে কেউ পছন্দের পণ্য কিনে নেন। আবার অনেকে ফোন নম্বরে কল দিয়ে কেনেন। আর এতেই প্রতি মাসে আয় লাখ টাকা।

দোকানটির স্বত্বাধিকারী সায়েম আহমেদ। একসময় অভাব অনটনে থাকা সায়েম পুরাতন জিনিস বিক্রি করে এখন সচ্ছল। শুরুতে সায়েম একা কাজ করলেও ব্যবসার প্রসার ঘটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িয়েছেন কর্মচারীও। বর্তমানে তার দোকানে নিয়মিত ৭-৮ কর্মচারী কাজ করেন। তাদের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ১০ হাজার টাকা। এই টাকা দিয়েই কর্মচারীরা তাদের পরিবারের ভরণপোষণ করেন।

Advertisement

সায়েমের দোকানের পুরাতন সোফাজানা যায়, ২০০০ সালে সায়েমের বাবা মারা যান। তখন তিনি উচ্চমাধ্যমিক পাস করে মাত্র স্নাতকে ভর্তি হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরার চাপ আসে তার ওপর। তখন ব্যবসা করার কথা ভাবেন তিনি। কিন্তু বেশি অর্থ বিনিয়োগের সামর্থ্য তার ছিল না। তখন পুরোনো জিনিস কিনে বিক্রির ভাবনা আসে তার মাথায়। সেই ভাবনা থেকেই ২০০১ সালে তার মেসার্স ঝামেলা কিনি দোকানের যাত্রার মাধ্যমে বেচাকেনা শুরু।

জাকির হোসেন নামের একজন ক্রেতা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, সব মানুষই ঝামেলা এড়িয়ে চলছে পছন্দ করেন। তবে সায়েম ঝামেলা কেনাবেচার মাধ্যমেই সচ্ছল হয়েছেন। আমি নিজেও তার প্রতিষ্ঠিত দোকান থেকে কম দামে একাধিক জিনিস কিনেছি।

নজরুল ইসলাম নামের একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, সম্প্রতি দোকানে পুরাতনের মধ্যে ভালো একটি ল্যাপটপ বিক্রি হবে জানতে পেরে দোকানে যাই। পরে মাত্র ৭ হাজার টাকায় পণ্যটি কিনেছি। এখনো ঝামেলা ছাড়াই ভালোভাবে চলছে ল্যাপটপ।

কথা হয় সায়েম আহমেদপর সঙ্গে। তিনি বলেন, বাবা মারা যাওয়ার পর পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে একটি ব্যবসা করার জন্য মনস্থির করি। কিন্তু আমার কাছে তেমন টাকা ছিল না। ভাবতে থাকলাম কি করা যায়। তখন দেখলাম অনেক মানুষ ফার্নিচার পরিবর্তন করে। সেক্ষেত্রে আমি এই সুযোগটা নেয়ার চেষ্টা করলাম এবং কম টাকায় সেগুলো কিনে তা মেরামত করে একটু বেশি দামে বিক্রির চিন্তা করি। তারপর প্রচার-প্রচারণার জন্য নগরীর দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার লাগানো, সংবাদপত্রের সঙ্গে লিফলেট বিতরণ করাসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে পরিচিতি পেয়ে বেচাকেনা বাড়ার মধ্যেই ফেসবুক পেজ খুলেও প্রচারণা চালানো হয়। এখন মানুষ সরাসরি যোগাযোগ করার পাশাপাশি অনলাইনে যোগাযোগ করেন।

দোকানের নাম এমন কেন, প্রশ্নে সায়েম বলেন, মানুষ নিজের ঘরের পুরোনো আসবাবকে তো ঝামেলাই মনে করে। আমি সেসব ঝামেলাই যেহেতু কিনে আনি, তাই ব্যবসার নাম রাখি ঝামেলা কিনি। এরপর বিভিন্ন স্থান থেকে পুরোনো আসবাবপত্র কিনে সেগুলোকে মেরামতের মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী করে পুনরায় বিক্রি করি।

সায়েম আহমেদ বলেন, পুরাতন জিনিসের পাশাপাশি বর্তমানে কাঠের সব ধরনের নতুন আসবাপত্রও বিক্রি করা হয়। বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় কর্মচারী দিয়ে তৈরি করে নিজেই বিক্রি করি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!