ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ছাদ ফুটো করতে এক মাস লেগেছিল সেই ফাঁসির ৪ আসামির

বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৪৮, ২৭ জুন ২০২৪
ছাদ ফুটো করতে এক মাস লেগেছিল সেই ফাঁসির ৪ আসামির
ছবি: সংগৃহীত

জেল পালানো নিয়ে লেখা হয়েছে গল্প-উপন্যাস। কেউ কেউ বানিয়েছেন সিনেমা। তবে বাস্তবের কোনো কোনো দুর্ধর্ষ কাণ্ড পেছনে ফেলে সিনেমার কাহিনীকেও। তেমনি এক দুর্ধর্ষ কাণ্ড ঘটেছে বগুড়া কারাগারে। পুলিশ ব্যারাকের ঠিক পাশেই কনডেম সেল। সেই সেলের একতলা ভবনের ছাদ ফুটো করে পালিয়েছেন চার ফাঁসির আসামি। তবে যেতে পারেনি বেশিদূর। কারাগারের এক কিলোমিটার দূরে টহল পুলিশের হাতে ধরা পড়েন তারা। কারাগার থেকে চার ফাঁসির আসামি একসঙ্গে এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা বগুড়ায় এটাই প্রথম।

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৬ জুন) ভোরে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে প্রধান কারারক্ষীসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে অপর দুই কারারক্ষীকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক বছর আগে এ সেল থেকে কয়েকজন জঙ্গি পালানোর ছক কষেছিল। তবে জঙ্গিদের অন্য একটি গ্রুপ বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিলে সেসময় পরিকল্পনাটি ভেস্তে যায়। এরপরও কনডেম সেলের সতর্কতা কিংবা বাড়তি নিরাপত্তা নেয়া হয়নি। এমনকি কনডেম সেলে চার ফাঁসির আসামিকে একসঙ্গে রাখার নিয়ম না থাকলেও বগুড়া কারা কর্তৃপক্ষ কেন তাদের রেখেছে– প্রশ্নটি সামনে আসছে। চারদিকে নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সিসি ক্যামেরা থাকার পরও এমন দুঃসাহসী কাজটি আসামিরা কীভাবে ঘটিয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে এরই মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এরই মধ্যে প্রধান কারারক্ষীসহ তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হবে। কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে অপর দুই কারারক্ষীকে।

Advertisement

জেলা কারাগার সূত্রে জানা যায়, ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বগুড়া জেলা কারাগার। ১৪১ বছরের প্রাচীন কারাগার চুন-সুরকির গাঁথুনি দিয়ে নির্মিত। ছাদের নিচে লোহার বিম দেওয়া থাকলেও ভেতরে কোনো রড নেই। এতে ছাদ দুর্বল হয়ে গেছে। এ সুযোগে কনডেম সেলে থাকা চার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদি পরিকল্পনা করে বালতির লোহার হাতল দিয়ে প্রায় এক মাস ধরে ছাদের কর্নারের একটি অংশ ছিদ্র করে। 

পুলিশ বলছে, কারাগারের সব সিসিটিভি ক্যামেরা সচল নেই। ৭০০ বন্দি ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে তিন গুণের বেশি ২ হাজার ২০০ বন্দি আছেন। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত ওই চার আসামি একটি সেলে গাদাগাদি করে ছিলেন। ওই সেলের ভেতরে কারারক্ষী যাওয়ার সুযোগ ছিল না। কারাকক্ষের যে জায়গায় ছাদে ফুটো করা হয়েছে, সেটি ভেতরে না ঢুকলে বোঝার উপায় নেই।

কারাগারের পূর্ব-উত্তর কোণে তিনটি কনডেম সেল রয়েছে। সেখানে ১৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিকে রাখা হয়েছে। জাফলং ভবনের কনডেম সেলে ছিল এই চারজন। এরা সেলের ছাদ দুর্বল জেনে ছিদ্র করে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রায় এক মাস আগে সেলের বাথরুমে থাকা বালতির লোহার হাতল খুলে সোজা করে।  এরপর পুরোনো কাপড় ও বিছানার চাদর পেঁচিয়ে রশির মতো করে নেয়। এসব রশি দেওয়ালে বেঁধে তারা ছাদ স্পর্শ করতে পারে। এরপর ওই লোহার হাতল দিয়ে প্রতিদিন একটু একটু করে ছিদ্র করতে থাকেন। সম্প্রতি ছিদ্রটি বড় হয়ে সেদিক দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী থানার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম ওরফে মজনু ওরফে মঞ্জু (৬০), নরসিংদী জেলার মাধবদী থানার ফজরকান্দি গ্রামের মৃত ইসরাফিলের ছেলে আমির হামজা ওরফে আমির হোসেন (৪১), বগুড়ার কাহালু উপজেলার উলট্ট গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে জাকারিয়া (৩৪) এবং বগুড়া সদরের কুটিরবাড়ী গ্রামের ইসরাইল শেখের ছেলে ফরিদ শেখ (৩০)। তারা প্রত্যেকেই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

বগুড়া সদর থানার ওসি সাইহান ওলিউল্লাহ বলেন, জাকারিয়া বগুড়ার কাহালুর শিশু নাইমকে হত্যা ও মরদেহ ইটভাটায় পুড়িয়ে ফেলার মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। ফরিদ শেখ, নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ও আমির হোসেন চারটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।

সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) শাহিনুজ্জামান শাহিন বলেন, পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার ফরিদুল ইসলাম রুবেল বুধবার দুপুরে ওই চার কয়েদির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!