শনিবার (২২ জুন) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সীমান্ত ইউনিয়নে হরিহরনগর থেকে তাদের আটক করা হয়। রোববার (২৩ জুন) দুপুরের তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জীবননগর থানার ওসি এস এম জাবীদ হাসান।
.png)
এদিকে, এমন কাণ্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনা, সমালোচনা এবং নিন্দার ঝড় উঠছে। ওই দুই যুবকের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে আপলোড করলে এ তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
আটককৃত এনায়েত উল্লাহ উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ও সবুজ হোসেন পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের স্বরুপপুর ইউপির কুশাডাঙ্গা গ্রামের আলাউদ্দিনের ছেলে। এনায়েতুল্লাহর স্ত্রী ও এবং তিন বছরের একটি মেয়ে আছে।
স্থানীয়রা জানান, এনায়েত উল্লাহ একজন বিবাহিত পুরুষ। সংসার জীবনে তার তিন বছরের কন্যাসন্তান রয়েছে। এর মধ্যে তিনি কুশাডাঙ্গা গ্রামের সবুজ নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। প্রেমের একপর্যায়ে তারা গত দেড় মাস আগে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এনায়েতুল্লাহর স্ত্রী রাগ করে বাবার বাড়িতে চলে যান। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর এনায়েতুল্লাহ সবুজকে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। তারা রাতে অবস্থান করছিলেন।
এরপর এনায়েতুল্লাহর স্ত্রী ও তার ভাই এবং গ্রামের মুরুব্বিদের নিয়ে তার শ্বশুর বাড়ি হরিয়াননগরে উপস্থিত হন। পরে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় দুজনকে আটক করে জীবননগর থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে এনায়েতুল্লাহ ও সবুজকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এ ব্যাপারে এনায়েতুল্লাহর স্ত্রী বলেন, ‘প্রায় রাতে আমার স্বামী বাইরে থাকত। আমি বলতাম তুমি কোথায় থাক, তখন তিনি উত্তর দিতেন, আমি যেখানেই থাকি তাতে তোর কী? আমাকে মারধর করত। এই সবুজ নিহা পরিচয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে কথা বলত। বিষয়টি আমার শশুরকে জানালে তিনিও ছেলের পক্ষ নেয়। আমার স্বামী আর একটা বিয়ে করেছিল সেটি পরিবারের সবাই জানত। তবে সেটি সবুজের সঙ্গে কী আমি জানতাম না। পরে জানতে পারি।’
এছাড়াও কুশাডাঙ্গা গ্রামবাসী বলেন, সবুজ পুরুষ হলেও সে মেয়েদের মতো করে চলাফেরা করে। বিভিন্ন বিয়ে বাড়িতে নাচ গান করে বেড়ায়। এছাড়াও কয়েক বছর আগে তার একটি বিয়েও হয়। কিন্তু কিছু মাস পরে তার বউ তার ঘর ছেড়ে চলে যায়। এখন সে নাচ গান এবং পুরুষদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক করাই তার প্রধান কাজ।
এদিকে হরিয়রনগর গ্রামবাসী জানান, ঘটনাটি বড় স্পর্শকাতর। কারণ এনায়েতুল্লাহর স্ত্রী ও তিন বছরের সন্তান থাকার পরেও কেন একজন পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করেছে সেটা তাদের জানা নেই।
এছাড়াও তারা বলেন, সবুজের সঙ্গে সম্পর্কের জের ধরে গত তিন মাস ধরে সে তার স্ত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহারসহ মারধরের ঘটনা পর্যন্ত ঘটায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জীবননগর থানার ওসি এসএম জাবীদ হাসান জানান, ঘটনাটি শোনা মাত্রই জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুই যুবককে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়। সেইসঙ্গে দুই যুবককে চুয়াডাঙ্গা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।