ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

সন্তানকে কচুরিপানায় ফেলে ডুবে যান মা

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২২ জুন ২০২৪
সন্তানকে কচুরিপানায় ফেলে ডুবে যান মা
বাবার কোলে শিশু সাবরিন

বাবার কোলে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ছয় মাস বয়সী সাবরিন। সে হয়তো জানে না তার মা আর নেই। মেয়েকে নিয়ে বৌভাতের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় ব্রিজ ভেঙে পড়ে মারা যান তার মা।

বরগুনার আমতলী উপজেলার চাওড়া ও হলদিয়া ইউনিয়নের মাঝামাঝি হলদিয়া ব্রিজ ভেঙে মাইক্রোবাস খালে পড়ে সাবরিনের মা রাইতি খানসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চারজন আহত এবং আরো তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন।

শিশু সাবরিনের বাবা সোহেল খান জানান, সাবরিনের মা রাইতিসহ তাদের আত্মীয় স্বজনদের ১৬ জন একটি মাইক্রোবাসে ছিল। সেতু ভেঙে মাইক্রোবাসটি যখন নদীতে ডুবে যাচ্ছিল রাইতি তখন কোল থেকে সাবরিনকে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে দেয়। পেছনে একটি অটোতে সোহেলসহ দুইজন আত্মীয় ছিল। তারাও পানিতে ডুবে যাচ্ছিল। সোহেল কোনোভাবে সাঁতরে ওপরে উঠে আসতেই কচুরিপানার ওপর তার চোখ পড়তেই দেখেন কচুরিপানার ওপর সাবরিন। সঙ্গে সঙ্গে নিজের সন্তানকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন তিনি।

Advertisement

সোহেল খান বলেন, এভাবে আমার সবকিছু কেড়ে নিলা আল্লাহ! ছোট মেয়েটাকে নিয়ে আমি এখন কিভাবে বাঁচবো?

শনিবার (২২ জুন) দুপুরে মাদারীপুর থেকে বরগুনার আমতলীতে বৌভাত খেতে এসে প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের ৭ জন।

দুপুরে কনে বাড়ি আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন থেকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের ছেলে বাড়িতে বউ ভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাইক্রোবাস ও অটোরিকশায় যাচ্ছিলেন কনে পক্ষের লোকজন। এ সময় উপজেলার ৫নং চাওড়া ইউনিয়ন এবং ৪নং হলদিয়া ইউনিয়নের সংযোগ সেতু হলদিয়া ব্রিজ ভেঙে একটি মাইক্রোবাস ও অটোরিকশা পড়ে যায় নদীতে। এ সময় মাইক্রোবাসের মধ্যে থাকা দুই শিশুসহ নয় নারী নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন রুবিয়া (৪৫), রাইতি (২২), ফাতেমা (৫৫), জাকিয়া (৩৫), রুকাইয়াত ইসলাম (৪), তাহিয়া মেহজাবিন আজাদ (৭), তাসফিয়া (১৪), ঋধি (৪) ও রুবি বেগম (৩৫)। এদের মধ্যে রুকাইয়াত ইসলাম ও জাকিয়ার বাড়ী উপজেলার দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া গ্রামে। অপর নিহত ৭ জনের বাড়ি মাদারিপুর জেলার শিবচর উপজেলার কোকরার চর গ্রামের বাসিন্দা। এরা কনে হুমায়রার মামা বাড়ির আত্মীয়স্বজন।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ব্রিজ ভেঙে মাইক্রোবাস নদীতে পড়লে ডুবে মারা যায় কনে পক্ষের ৯ জন মানুষ আত্মীয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: বরগুনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!