ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

জলে ৩৬ লাখ টাকার বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র!

রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৩:৫৩, ১৫ জুন ২০২৪
জলে ৩৬ লাখ টাকার বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র!
বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ছয়টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়েছিল। এসব দণ্ড স্থাপনের পর অনেক যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে। এতে সরকারের অর্থ খরচ হলেও বাস্তবে কোনো কাজে আসছে না বলে জানান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগ সূত্র বলছে, ২০২২ সালের ১৭ মে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ছয়টি ভবনের ছাদে ছয়টি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপনের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাবর অ্যাসোসিয়েটসকে। কাজের চুক্তি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৪ টাকা। মেয়াদ ছিল ২১ দিন। চুক্তি অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রধান ভান্ডার (স্টোর) ভবন, হাসপাতালের ২৫, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড ভবনের ছাদে একটি করে এবং প্রশাসনিক ভবনের ছাদে দুটি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়। এসব দণ্ডের সঙ্গে মূল্যবান তার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংযুক্ত করা হয়েছিল। একই বছরের জুন মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শেষে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কাজ বুঝিয়ে দেয়। এরপর কত দিন এসব দণ্ড কার্যকর ছিল? তা জানা যায়নি।

চুক্তি অনুযায়ী হাসপাতালের প্রধান ভান্ডার (স্টোর) ভবন, হাসপাতালের ২৫, ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড ভবনের ছাদে একটি করে এবং প্রশাসনিক ভবনের ছাদে দুটি বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড স্থাপন করা হয়।

Advertisement

একাধিক সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ভবনের ছাদ, প্রধান ভান্ডার ভবন ও ২৫ নম্বর ওয়ার্ড ভবনের ছাদে বজ্রপাত নিরোধক দণ্ডটির আকাশের দিকে তাক করানো থাকলেও দণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা পাইপের ভেতরে মূল্যবান তার নেই। অন্যান্য যন্ত্রাংশও চুরি গেছে।

গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আয়াতুল্লাহ বলেন, সবকিছুই ঠিকমতো করা হয়েছিল। হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক কাজ বুঝে নেয়ার সময়ের ছবিও রয়েছে। ঠিকাদার যথারীতি কাজটি হস্তান্তর করেছিলেন। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের। কোনো যন্ত্রাংশ চুরি হলে সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।

গণপূর্ত বিভাগের নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী বলেন, হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য কর্তৃপক্ষ এত এত আনসার সদস্য নিয়োগ করেছে। অথচ এই মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি হয়ে যায়, কিছুই দেখে না তারা।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফ এম শামীম আহাম্মদকে মোবাইলে একাধিকবার কল করে ও হোয়াটস অ্যাপে ম্যাসেজ দিলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে হাসপাতালের ইএমও ইনচার্জ ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, এ যন্ত্রগুলো সাবেক পরিচালকের আমলে স্থাপন করা হয়েছে। তবে এটি সচল আছে কি না? সেটা বর্তমান পরিচালক জানেন না। চুরির বিষয়টিও জানা নেই এবং কেউ অভিযোগও করেননি। এটা গণপূর্ত বিভাগ দেখে। তবে হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে বসে এটা কিভাবে নতুন করে আপডেট করা যায় সে বিষয়ে পরিকল্পনা নেবেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!