ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল, তবুও কিনছে না ক্রেতা

হাসান পিন্টু, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশিত: ১৬:৫৭, ৮ জুন ২০২৪
বাজারে ভরপুর মৌসুমি ফল, তবুও কিনছে না ক্রেতা
লালমোহন পৌরসভার চৌরাস্তার মোড়ের ফল বিক্রেতা মো. বাবুলের দোকানে বিভিন্ন প্রকার ফল। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মো. বাবুল। তিনি একজন ফল বিক্রেতা। গত অন্তত ২৫ বছর ধরে ভোলার লালমোহন পৌরসভার চৌরাস্তার মোড়ে ফলের ব্যবসা করছেন বাবুল। ফল বিক্রি করতে গিয়ে এ বছরের মতো আর কখনো হিমশিম খাননি তিনি। বাবুলের ফলের দোকানে সব ধরনেরই ফল রয়েছে। তবে মৌসুম চলায় এখন ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় আম-লিচুসহ অন্যান্য মৌসুমি ফল।

ফল বিক্রেতা বাবুল বলেন, ২৫ বছরের মতো ফল বিক্রি করছি। তবে এ বছরের মতো এতো দাম কখনো দেখিনি। এ বছর মৌসুমি ফলগুলোর দামও অনেক বেশি। তবুও ক্রেতাদের চাহিদার কথা ভেবে দোকানে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি মৌসুমি ফল আম ও লিচু তুলেছি। এ বছর লিচুর দাম গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গত কয়েকদিন আগেও একটি লিচু ৬ টাকা করে বিক্রি করতে হয়েছে। বর্তমানেও একটি লিচু সাড়ে ৪ টাকার মতো করে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, মৌসুমি ফল আমও বিক্রি করছি। এই আমের দামও এ বছর দ্বিগুণ। গত বছর জাতভেদে যে আম এক কেজি ৬০ টাকা থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করেছি। তা এখন ১০০ টাকা থেকে ১৩০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। মৌসুমি ফলের এমন অস্বাভাবিক দামের কারণে ক্রেতারা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী ফল কিনতে পারছেন না। যেই ক্রেতা আগের বছর ৫ কেজি আম কিনতেন, তিনি এ বছর ২ থেকে ৩ কেজি কিনছেন। আবার যিনি গত বছর একশত লিচু কিনেছেন, তিনি এবার ৫০টি কিনছেন। অনেকে ক্রেতা তো আবার দাম শুনে কোনো কথা না বলেই ফল না কিনে চলে যাচ্ছেন।

Advertisement

ফল বিক্রেতা বাবুল আরো বলেন, এ বছরের ফলের দাম বাড়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম চাহিদার তুলনায় কম ফল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া আমরা ফলগুলো রাজশাহী, যশোর ও দিনাজপুর থেকে কিনে আনি। এ বছর পরিবহণ খরচও বেড়েছে, তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই আমরা বেশি দামে ফল বিক্রি করছি। বেশি দামে ফল বিক্রি করলেও আমাদের তেমন লাভ হয় না। এক কেজি আম বিক্রি করলে ১০ টাকা থেকে ১৫ টাকার মতো লাভ হয়। আর একশত লিচু বিক্রি করলে লাভ হয় ২০ টাকার মতো।

কেবল বাবুলই নয়, তার মতো লালমোহন পৌরসভার বিভিন্নস্থানে বর্তমানে মৌসুমি ও স্থায়ী ফল ব্যবসায়ী আছেন অন্তত ৩০ জন। এসব ফল বিক্রেতাদের সবাইকে বেশি দামে ফল কিনে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে মৌসুমি ফল খাওয়ার স্বাদ থাকলেও সাধ্য নেই অনেকের। তাদের মধ্যে এমনই একজন মো. নাগর। তিনি লালমোহন পৌরসভায় প্রায় ১০ বছর ধরে রিকশা চালান। তার দৈনিক আয় ৫০০ টাকা। স্ত্রী ও এক ছেলে, এক মেয়েসহ তার মোট চার সদস্যের সংসার। তার দৈনিক যা আয় হয়, তা সংসারের গুরুত্বপূর্ণ খাতেই ব্যয় হয়ে যায়।

লালমোহন পৌরসভার চৌরাস্তার মোড়ের ফল বিক্রেতা মো. জুয়েলের দোকানে মৌসুমি ফল লিচুরিকশাচালক মো. নাগর বলেন, সারা দিন কষ্ট করে রিকশা চালাই। এতে করে দিনশেষে আয় হয় ৫০০ টাকা। এই আয় দিয়ে কোনো রকমে কেবল সংসার চলে। এখান থেকে বাড়তি খরচের কোনো পথ নেই। তাই ফল কিনবো কিভাবে? আগে চাইলেও মৌসুমি ফলগুলো কেনা যেতো। তবে এখন এসব ফল আমাদের মতো নিম্নবিত্ত মানুষের জন্য অপচয়ের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে। মৌসুমি ফলগুলোও এখন হয়ে গেছে কেবল বড়লোকদের খাবার।

মাদরাসাশিক্ষক মো. মাকসুদুর রহমান বলেন, এ বছর মৌসুমের সময়ও ফলের দাম অনেক বেশি। যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের নাগালের একেবারেই বাইরে। আমি যে বেতন পাই তা দিয়ে সংসার চালানোর পর ফল কেনা খুবই কষ্টসাধ্য। তবুও সন্তানদের আবদারে তিনবারে তিন কেজি আম কিনেছি। লিচুর দাম এতোই বেশি তা আর কেনার সাহস হয়নি।

লালমোহন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আবু হাসনাইন জানান, এ উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে তেমন কোনো ফল উৎপাদন হয় না। যার জন্য বাজারের ব্যবসায়ীরা বাহিরের জেলাগুলো থেকে ফল এনে বিক্রি করেন। এছাড়া ফলের উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে। যার জন্যই বর্তমানে বাজারে মৌসুমি ফল থাকলেও দাম কিছুটা বেশি। তবে আমরা লালমোহনের কৃষকদের বিভিন্ন প্রকার ফল উৎপাদনের জন্য উৎসাহী করছি। এ উপজেলায় ফল উৎপাদন বাড়লে বাজারেও দাম কমে যাবে বলে মনে করছি।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!