ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মহাসাগরের সবচেয়ে বিষধর সাপ কক্সবাজার সৈকতে

কক্সবাজার প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১০:৪০, ৬ জুন ২০২৪
মহাসাগরের সবচেয়ে বিষধর সাপ কক্সবাজার সৈকতে
তীব্র বিষধর সামুদ্রিক সাপ ইয়েলো বেলিড

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে দেখা মিলেছে তীব্র বিষধর সামুদ্রিক সাপের। এ নিয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে জোয়ারের পানিতে তিনটি সাপ ভেসে এলো। এরমধ্যে একটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন পর্যটকরা।

বুধবার (৫ জুন) বিকেলেও কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে ভেসে আসে হলুদ পেটযুক্ত ইয়েলো বেলিড সী স্নেক। আর সৈকতে এই ধরনের সাপ দেখলে লোকজনের সতর্ক হওয়ার পরামর্শ প্রশাসনের।

Advertisement

জানা যায়, মাথা লম্বা-আকৃতিতে দেহ থেকে ভিন্ন। শরীরের উপরিভাগের অর্ধেক কালো, গাঢ় নীলাভ ও বাদামি রঙের। নিম্নাংশ হলুদাভ তীব্র চিত্রিত। পুরোটা দেখে মনে হতেই পারে রঙিলা কোনো বিশেষ বস্তু। আদতে এটি বিষাক্ত ‘ইয়েলো বেলিড’ সাপ। যাদের বাস প্রশান্ত মহাসগরের পানির ওপরের স্তরে। সচারচর উপকূলে দেখা মেলে না। সম্প্রতি সেই বিরল দৃশ্য দেখা গেছে কক্সবাজার। এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত তিনটি ইয়েলো বেলিড সাপ কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে। 

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সমুদ্রবিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর বলেন, হলুদ-পেটযুক্ত বা ইয়েলো বেলিড সাপ প্রশান্ত মহাসাগরীয় এবং ভারত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলে ১৮-২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বসবাস করে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিস্তৃত সাপ। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের সাগরেও এটির বিস্তৃতি রয়েছে। এই সাপটি সাধারণত সৈকত থেকে দূরে সাগরের মুক্ত জলে সাঁতার কাটে। এরা সাগরের উপরের স্তরে অর্থাৎ পেলাজিক স্তরে বসবাস করে। সাগর তলে এদের দেখা পাওয়া যায় না। অসুস্থ বা আহত হয়ে উপকূলে ভেসে এলে এই সাপের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

তিনি বলেন, উপকূল থেকে দূরে বসবাস করে বলেই শুধুমাত্র অসুস্থ বা আহত হয়ে উপকূলে ভেসে এলেই কেবল হলুদ পেটযুক্ত সামুদ্রিক সাপের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। উপকূলে ভেসে আসা সাপটি সতর্কতার সঙ্গে নাড়াচাড়া না করলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং কামড়ের সম্ভাবনা থাকে। এদের বিষদাঁত বা ফ্যাংগুলি বেশ ছোট (১.৫ মিমি) এবং খুব সামান্য পরিমাণে বিষ ঢালতে পারে।

সামুদ্রিক সাপের মধ্যে হলুদ-পেটের সামুদ্রিক সাপ সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। এই সাপ অত্যন্ত বিষধর এবং এতে শক্তিশালী নিউরোটক্সিন এবং মায়োটক্সিন রয়েছে। এনভেনোমেশন বা বিষক্রিয়ার লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে- পেশি ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখের পাতা ঝুলে যাওয়া, তন্দ্রা এবং বমি হওয়া ইত্যাদি। এ সাপের একটি গুরুতর কামড় সম্পূর্ণ পক্ষাঘাত এবং মৃত্যুর কারণ হতে পারে। হলুদ পেটের সামুদ্রিক সাপে কামড়ানোর সন্দেহ হলে এমনকি কামড়টি তুচ্ছ মনে হলেও যে কারোরই অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত। 

কক্সবাজার সৈকতের লাইফগার্ড জয়নাল আবেদীন বলেন, গত এক সপ্তাহে সৈকতে ভেসে আসে তিনটি অসুস্থ সামুদ্রিক সাপ। প্রত্যেকটা ইয়েলো বেলিড। বুধবার লাবনী পয়েন্টে ভেসে আসা সাপটি সাগরে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর আগে সোমবার একটি সাপ পর্যটকরা পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে এই সাপের দেখা মেলে। সাপটি বিষাক্ত হওয়ায় এ ব্যাপারে পর্যটকদের সতর্ক করা হয়েছে।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়ামিন হোসেন বলেন, পর্যটকদের বিভিন্ন সতর্কতা দেওয়া হয়। বিচ কর্মীরা মাইকিং করে, হোটেল ও সৈকতের প্রবেশদ্বারে ডিজিটাল ডিসপ্লেতে নানা নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেহেতু সৈকতে বর্ষা মৌসুমে সামুদ্রিক সাপের দেখা মিলছে তাই এ ব্যাপারে নির্দেশনার পাশাপাশি মাইকিং করা হবে। পর্যটকদের আরো সতর্ক করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!