রোববার (২ জুন) এ তথ্য জানান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ মজুমদার।
তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৪২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ১৭৪ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮ কোটি ৮৮ লাখ ২৫ হাজার ১৭৪ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সন্দ্বীপে। এছাড়া চন্দনাইশ উপজেলায় সাত কোটি, মীরসরাইয়ে দুই কোটি ৩৯ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০, আনোয়ারায় এক কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার, সীতাকুণ্ডে এক কোটি ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৫০০, বাঁশখালীতে এক কোটি চার লাখ ৮৫ হাজার, কর্ণফুলীতে ৫৮ লাখ এবং লোহাগাড়ায় ৩৯ লাখ ৭৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
.png)
তবে জেলার ১৫টি উপজেলার মধ্যে হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, বোয়ালখালী, পটিয়া ও সাতকানিয়ায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
গত ২৬ মে রাতে বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। আবওহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী ক্ষয়ক্ষতি কমাতে চট্টগ্রামে আগাম প্রস্তুতি নেয়া হয়। প্রস্তুত করা হয় এক হাজার ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। একইসঙ্গে এক হাজার ১৪০টি বিদ্যালয় ও নয়টি মুজিব কেল্লা আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়।
আশ্রয়কেন্দ্রের পাশাপাশি চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কর্তৃক ইউনিয়ন পর্যায়ে ২০০টি, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচটি, আর্বান ডিসপেন্সারি নয়টি এবং পাঁচটি জেনারেল হাসপাতালসহ মোট ২৯৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়। মজুত রাখা হয় পানি বিশুদ্ধকরণের জন্য ট্যাবলেট ও খাবার স্যালাইন।
কর্ণফুলী, আনোয়ারা, বাঁশখালী, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই ও সন্দ্বীপ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসক।
এছাড়া বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র ও ব্যবহার উপযোগী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের নিমিত্তে প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের অনুরোধ জানানো হয়। মানুষের পাশাপাশি গবাদি পশু ও অন্যান্য প্রাণীর সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়।