ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
ট্রেন থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া যুবকের মরদেহ উদ্ধার

প্লেনে ওঠার খুব শখ ছিল তানভীরের, যাওয়া হলো না মালয়েশিয়া

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৩৪, ২ জুন ২০২৪
প্লেনে ওঠার খুব শখ ছিল তানভীরের, যাওয়া হলো না মালয়েশিয়া
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে নিখোঁজ হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌর এলাকার দেবগ্রাম এলাকার তানভীরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় সাত কিলোমিটার দূরে নরসিংদী জেলার রায়পুরা ও কুমিল্লা জেলার গৌরিপুর এলাকার মাঝামাঝি স্থান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার লাশ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

এদিকে, তার মৃত্যুর খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের ছায়া নেমে আসে। পরিবারসহ স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। তার মরদেহ বাড়িতে আনা হলে নিজ আত্মীয়স্বজনের পাশপাশি এলাকার শতশত মানুষ তাকে এক নজর দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন। বাদ মাগরিব দেবগ্রাম পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

গত ৩১ মে বিকেলে তিনি কিশোরগঞ্জের ভৈরব স্টেশন পাওয়ার হওয়ার পর উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে পড়ে মেঘনা নদীতে ডুবে যান। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন।

Advertisement

তানভীর পৌরশহরের দেবগ্রাম এলাকার মেরাজ মিয়ার ছেলে। এক ভাই এক বোনের মধ্যে ছোট ছিলেন তানভীর। বোন আশা মণির বিয়ে হয়ে গেছে।

সোহেলের মামা মো. ইমরান হোসেন বলেন, ‘আমার বোনের পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল না। ভাগ্নে যেন জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল হয় সেজন্য তাকে প্রবাসে পাঠানোর চিন্তা করা হয়। এছাড়া প্রবাসে যাওয়া ও প্লেনে ওঠার খুব শখ ছিল তানভীরের। তার বাবা কখনো ছেলের শখ অপূর্ণ রাখেননি। প্রবাসে যাওয়ার বিষয়টা একরকম তার শখপূরণ করার বিষয়ও কাজ করেছে।

কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, ‘গত তিনদিন নৌ পুলিশসহ আমরা লাশ উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করি। দুপুরে রায়পুরা এলাকায় এক জেলে পানিতে লাশ ভাসতে দেখে সেখানকার পুলিশে খবর দেন। পুলিশের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাড়ে ছয় লাখ টাকা চুক্তিতে মালয়েশিয়ার যাওয়ার কথা তানভীরের। ৩১ মে সকালে ঢাকায় যাওয়ার পর জানতে পারেন তানভীরের জন্য বিমানের টিকিট ম্যানেজ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ট্রাভেলস এজেন্সি। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, আগামী পাঁচ-সাতদিনের মধ্যে টিকিট ম্যানেজ করে তানভীরকে পাঠানো হবে। এ অবস্থায় তানভীর ও তার স্বজনরা উপকুল এক্সপ্রেস ট্রেনে বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। ট্রেনটি ভৈরব রেলস্টেশন পার হওয়ার পর সিট থেকে উঠে দরজার সামনে আসেন তানভীর। মুহূর্তেই তিনি মেঘনা সেতুতে পড়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজনের কাছ থেকে বিষয়টি শুনে সঙ্গে থাকা স্বজনরা বুঝতে পারেন তানভীরই পড়ে গেছেন। এরপর থেকে তার লাশ খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!