ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

ব্যাংক থেকে সোনা গায়েব, তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৭:২৯, ২ জুন ২০২৪
ব্যাংক থেকে সোনা গায়েব, তদন্ত কমিটি গঠন
ফাইল ফটো

চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার লকার থেকে গ্রাহকের ১৪৯ ভরি সোনার গায়েবের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন শাখার ম্যানেজার শফিকুল মাওলা।

তিনি বলেন, গ্রাহকের মৌখিক অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি জানা যাবে।

জানা গেছে, ইসলামী ব্যাংকের চকবাজার শাখার একটি লকারে ১৪৯ ভরি সোনা রেখেছিলেন নগরের চট্টেশ্বরী সড়কের বেভারলি হিল এলাকার বাসিন্দা রোকেয়া বারী। বুধবার (২৯ মে) লকার ইনচার্জের সঙ্গে লকার রুমে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান- তার লকারটি খোলা এবং সেখানে ১৪৯ ভরি সোনা নেই। পরে তিনি চকবাজার থানায় জিডি করতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তবে এ ঘটনায় জিডি না নিয়ে ভুক্তভোগীকে মামলা করার পরামর্শ দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় সোমবার (৩ জুন) আদালতে মামলা করার কথা রয়েছে।

Advertisement

রোকেয়া বারীর ছেলে রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, ২০০৭ সাল থেকে আমার মা এই শাখায় তার স্বর্ণের গহনা রাখার জন্য লকার ব্যবহার করে আসছেন। গত ২৯ মে দুপুর ১২টার দিকে ব্যাংকে গিয়ে লকার রুমের ইনচার্জকে তার লকার দেখার অনুরোধ করেন। মায়ের কাছে লকারের মূল চাবি আছে এবং আরেকটি ডুপ্লিকেট চাবি ইনচার্জের কাছে থাকে। লকার রুমে প্রবেশ করলে ইনচার্জ প্রথমে দেখেন যে মায়ের লকারটি খোলা। আমার মা লকারটি পরীক্ষা করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানান।

রিয়াদ মোহাম্মদ মারজুক বলেন, লকার খোলা থাকায় বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে চকবাজার থানার ওসিকে জানাই। তিনি ব্যাংকে এসে লকার রুম দেখেছিলেন। এরপর আমরা একটি জিডিও করতে চেয়েছি। কিন্তু ওসি আমাদের আদালতে মামলা করতে বলেছেন। আমরা আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। আগামীকাল আদালতে মামলা করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সাতদিনের সময় চেয়েছিল। আমরা তাদের আজ (রোববার) পর্যন্ত সময় দিয়েছি। ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এসে আজ এ বিষয়ে তদন্ত করার কথা। যাহোক, আমরা আগামীকাল মামলা করবো।

এ বিষয়ে চকবাজার থানার ওসি ওয়ালি উদ্দিন আকবর বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। লকার রুমে কোনো ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা নেই। ঘটনাটির গুরুত্বের কারণে ভুক্তভোগীকে ফৌজদারি মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি।

সম্প্রতি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার চাঁপাপুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখা থেকে গ্রাহকের এক কোটি ২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হন ক্যাশিয়ার সুজন রহমান ও তার পরিবার। ঘটনাটির রেশ না কাটতেই চট্টগ্রামে একই ব্যাংকের চকবাজার শাখার লকার থেকে সোনা গায়েবের অভিযোগ উঠেছে।

বগুড়ার ঐ ঘটনায় বুধবার (২৮ মে) মামলা করেছেন চাঁপাপুর ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- ব্যাংকের ক্যাশিয়ার গোবিন্দপুর গ্রামের সুজন রহমান, তার বাবা এনামুল হক ও মা রুবিয়া খাতুন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!